ঝিনাইদহ পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর লুটপাট

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ-ঝিনাইদহ পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজলের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একদল যুবক ঝিনাইদহ শহরের গার্লস স্কুল রোডে অবস্থিত কিংশুক বিপনীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থাকা কিংশুক বিপনীর পিকআপ ভ্যানের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। কিংশুক বিপনীর কর্মচারীরা বলেন, তাদের দোকানের ক্যাশ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে। হামলার সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইয়ুম শাহরীয়ার জাহেদী হিজল নির্বাচনী প্রাচারনায় ব্যস্ত ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি শত শত সমর্থক নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বাসায় ফিরে তিনি তাৎক্ষনিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে কাইয়ুম শাহরীয়ার জাহেদী হিজল নৌকার কতিপয় সমর্থকদের এই হামলার জন্য দায়ী করে বলেন, আমার পিতা মুছা মিয়া একজন ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি জীবনবাজী রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন। হিজল বলেন, আমার পিতা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু আমাদের বাড়িতে এসেছেন। অথচ আমি ভোটে দাড়িয়ে কি দোষ করেছি যে আমার বাড়িতে হামলা করা হলো? হিজল বলেন, ১২০ বছরের ইতিহাসে তো নয়ই এমনকি পাক আর্মিরাও আমাদের বাড়িতে হামলা করার সাহস দেখায়নি। তিনি বলেন ঝিনাইদহ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও পেশীশক্তি নির্মলে আমার পরিবারের গায়ে এক বিন্দু রক্ত থাকতেও আমি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন থেকে পিছ পা হবো না। এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিজলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে যাওয়ার সময় পৌর বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান লিপিয়ার ও আওয়ামীলীগ সমর্থক কটন আসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়। তাদের দুইজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আসলাম আওয়ামীলীগ সমর্থক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কান্তির বন্ধু হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান লিপিয়ারের বড় ভাই আলমগীর ঝিনাইদহ পৌরসভার কালীচরণপুর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করছেন। ভাইয়ের কারণে ছোট ভাইয়ের উপর হামলা করা হয় বলে পারিবারিক ভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনকে ভয় পায় বলেই দিনের ভোট রাতে করে ও কোন প্রতিদ্বন্দি রাখতে চাই না। নির্বাচনে জিততে পারবেনা বলেই তারা ঝিনাইদহ শহরে নৈরাজ্য কায়েম করছে বলেও বিএনপি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শেখ সোহেল রানা বলেন, হামলার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখনো কেও অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।