বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত, গ্রেফতার ২

মুঠোফোনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-ছবি নিজেদের নম্বরে সেভ করে করত যোগাযোগ। সেই চ্যাটিং স্ক্রিনশট, ছবি ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। নজদারির পর র‌্যাবকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানী থেকে চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা-এনএসআই। বুধবার (১৮ মে) সকালে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠা-বসা, উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া। আস্থা অর্জনে ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে ব্যবহার করতেন মিথ্যা রেফারেন্স। প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে হাতিয়ে নেয় কয়েকশ কোটি টাকা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এনএসআই ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় দুই প্রতারককে। মূলহোতা মনসুর আহমেদ চাঁদপুরে নিজ এলাকায় জমির দালালি করত। পরে ঢাকায় এসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। তার সহযোগী মহসিন প্রথমে ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসা করত। র্যাব বলছে, চক্রটি গত ৪ বছরে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ঠিকাদার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে লুটে নেয় কোটি কোটি টাকা। চক্রটি প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রটি বর্তমানে তিতাস নদী ড্রেজিং, আড়িয়াল খাঁ নদী ড্রেজিং ও নদীর তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি করপোরেশনের ড্রেনের সংস্কার কাজ। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিস কনস্ট্রাকশনের কাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এ চক্রে ৫/৭ জন সদস্য রয়েছে। চক্রের মূলহোতা মুনসুর। চক্রটি গত প্রায় ৩-৪ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে আসছিল। তারা প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করত। তিনি বলেন, প্রথমত তারা নতুন মোবাইল সিম কিনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে সেভ করত এবং নিজেরা ওই ব্যক্তি সেজে নিজেদের প্রতারণা চক্রের সদস্যদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাটিং করত। চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীর মোবাইলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সেভ করত। র‌্যাব জানায়, পরবর্তীতে তারা সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চ্যাটিং করে। এই চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করত যাতে যে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা ইতোপূর্বে অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে এবং তাদের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুবই সু-সম্পর্ক রয়েছে। চক্রের একজন সদস্য তথাকথিত সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। যে নিজেকে আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দিত। সেখানে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিত বলে গ্রেফতাররা জানায়। তিনি আরও বলেন, সাত সদস্যের চক্রের অন্যদেরও গ্রেফতার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।