সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখল বাংলাদেশ

দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশে, যা দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বুধবার (১৮ মে) রাতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতি এপ্রিল মাসে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ, যা গত তিন মাস ধরেই ৬ শতাংশের ওপরে আছে। চলতি বছর মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে টানা ছয় মাস বাড়ার পর জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে আবার বাড়তে শুরু করে। মূল্যস্ফীতির হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত বছর এপ্রিল মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২২ সালের এপ্রিলে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৬ টাকা ২৯ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। বিবিএসের তথ্যমতে, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে দেশে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে। এপ্রিলে খাদ্যপণ্যে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে। মার্চ মাসে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়। মার্চ মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ ছাড়াও বিবিএসের প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যায়, গত কয়েক মাসের মতো এপ্রিলে শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি মূল্যস্ফীতি হয়েছে; এ মাসে গ্রামে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আর শহরে হয়েছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন বাস্তব চিত্র বিবিএসের দেওয়া তথ্য থেকে ভিন্ন। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) বলছে, দেশে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত হার বিবিএসের চেয়ে দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। গত ৩ মার্চ ‘মূল্যস্ফীতি: সরকারি পরিসংখ্যান বনাম প্রান্তিক মানুষের বাস্তবতা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সানেম। এতে বলা হয়েছে, শহর এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার এখন ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর গ্রামে এই হার ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। একই তথ্য উঠে এসেছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায়। সোমবার (১৬ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, জাতীয় বাজেট ও অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিবিএসের মূল্যস্ফীতির হিসাব বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত নয়। বাজারের যে অবস্থা তাতে মূল্যস্ফীতি এখন ১২ শতাংশ হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। বিবিএস ২০০৫-২০০৬ সালের ভোক্তাদের মাথায় রেখে মূল্যস্ফীতি ঠিক করে। ১৭ বছর পরে সেই মানুষদের পরিবর্তনকে তারা ধরছে না। গ্রামে মূল্যস্ফীতি শহরের চেয়ে বেশি। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।