জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক,হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

সাধারণ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, কে কতটুকু ওষুধ রোগীর জন্য লিখতে পারবেন তা নির্ধারণ করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ডাক্তার রোগীর জন্য অপ্রয়োজনীয় ওষুধ লিখলে তা নজরদারিতে আনা হবে। এদিকে ৬৭ শতাংশ জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের লাগাম টেনে না ধরলে হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য। মানবদেহে জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। তবে অভিযোগ আছে, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারেরও। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি) ১০ লাখ ২৭ হাজার ২৭৫ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে। যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে ৬৭ শতাংশ জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করছে না অ্যান্টিবায়োটিক। বেছে নেওয়া ১০টি জীবাণুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে ই-কোলাই। গবেষণা বলছে, ডায়রিয়া ও মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণে দেশে ব্যবহৃত ১৪ টি অ্যান্টিবায়োটিক কোনো না কোনো মাত্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অ্যাম্পিসিলিন ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে আর ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে অকার্যকর ইমিপেনেম। এ অবস্থায় নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারে গবেষণার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকসহ সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বিপণন ব্যবস্থা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিদওয়ান-উর-রহমান বলেন, আজকে থেকে ২৫-৩০ বছর এমন সব সুপার ভাগ (ব্যাকটেরিয়া) আসবে। যেখানে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে না। গত ১৫-২০ বছরে দুইটা অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে, সেখানে আমাদেরকে পুরানো অ্যান্টিবায়োটিকে চলতে হচ্ছে। এ জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের গবেষণাও উন্নত করতে হবে। নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে আসতে হবে। সেই সঙ্গে তার ব্যবহারেও সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়েছে। ব্যবস্থাপত্রে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার সময় যৌক্তিক কারণ না থাকলে দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির বলেন, আমাদের প্রথমদিকের কিছু ওষুধ কাজ করছে না, যে ওষুধগুলো রিজার্ভ থাকার কথা সেটাও থাকছে না। সে জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুপার বিশেষজ্ঞ কি ওষুধ লিখতে পারবে সেটা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ব্যবস্থাপত্র পরীক্ষা হবে, কোনো অযৌক্তিক ওষুধ লেখা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ৬৭ শতাংশ খুচরা বিক্রেতা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ না চেনায় মোড়কে লাল রং এবং অ্যান্টিবায়োটিক শব্দ লেখার নির্দেশ দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।