ঘূর্ণীঝড়ে সম্পূর্ন বিধ্বস্ত পথের দিশা ভাসমান স্কুল

বগুড়া রেল স্টেশন বস্তিতে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত ‘পথের দিশা ভাসমান স্কুল’ ঘরটি প্রচন্ড ঘূর্ণীঝড়ে সম্পূর্ন বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বগুড়া শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে বস্তির অন্যান্য স্থাপনার সাথে স্কুলঘরটিও বিধ্বস্ত হয়। টিনের বেড়া, টিনের ছাউনিতে গড়া স্কুলঘরের টিনের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে আনুমানিক ২০০ হাত দূরে রাস্তার উপর আছড়ে ফেলেছে। রাতের আঁধারে স্থানীয় সুবিধাবাদীরা টিনগুলো খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়া টিনের বেড়া ভেঙ্গে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। কাঠের বেঞ্চগুলো পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সকালে স্কুল ঘরের বিধ্বস্ত দৃশ্য দেখে সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বস্তির শিশুরা নতুন করে আবারও পড়ালেখার সুযোগ পাবে কি না এটা ভেবে চিন্তিত। অভিভাবকরাও হতাশ হয়ে পড়েছেন। পথের দিশা ভাসমান স্কুলের পরিচালক সাংবাদিক মোস্তফা মোঘল জানান, সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতায় অনেক কষ্টে স্কুলঘরটি তৈরি করা হয়েছিল। রোদ-বৃষ্টিতে বস্তির শিশুদের পড়ালেখা চালিয়ে নিতেই ঘরটি নির্মাণ করা হয়। ঝড়ে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হওয়ার ফলে এখন বাচ্চাদের লেখাপড়া করানোর মত কোন পরিবেশ নেই। স্কুলঘর পূনরায় নির্মাণ করা না গেলে বস্তির শিশুদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি স্কুলঘর পূনঃনির্মাণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
বগুড়া রেল স্টেশন বস্তির শিশুদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয় ‘পথের দিশা ভাসমান স্কুল’। একদল উদ্যমী তরুণের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত ৭ বছরে বস্তির শিশুদের অনেকেই অক্ষর জ্ঞান পেয়েছে। অনেক শিশু স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। স্কুলের পক্ষ থেকে সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারকে নিয়মিত সহযোগিতা করা হয়। শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, কলমসহ সবধরনের শিক্ষা উপকরণ দেয়া হয় বিনামূল্যে। এছাড়া শীতবস্ত্র, ঈদে নতুন পোষাক, কুরবানীর ঈদে গোস্ত, রমজান মাসে খাদ্যসামগ্রীসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে তাদের সহযোগিতা করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন এবং বার্ষিক ক্রীড়া উৎসব পালন করা হয়। বস্তির শিশু ও তাদের অভিভাবকরে নিয়ে প্রতি বছর বনভোজন আয়োজন করা হয়।