কুড়িগ্রাম গৃহ নির্মাণ ও গরু বিতরনের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক গ্রেফতার

সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম-দাতা সংস্থার মাধ্যমে গৃহনির্মাণ ও গরু বিতরণের কথা বলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চঞ্চল কুমার রায় (৩৩) নামে এক যুবককে আটক করেছে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) ভোরে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার (২০ মে) সকালে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। আটক চঞ্চল কুমার রায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া গ্রামের নিকুঞ্জ কুমার রায় ও চন্দনা রানী রায়ের ছেলে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার জানান, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ও পাঁচগাছী ইউনিয়নে ‘কেয়ার বাংলাদেশ আরডিএফ প্রকল্পের’ স্টাফ পরিচয়ে চঞ্চল ২০২০ সালের ১ এপ্রিল স্থানীয় লোকজনকে গৃহনির্মাণ ও গরু-ছাগল বিতরণের কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায়।
এ জন্য ঘর নির্মাণে ৩০ হাজার ৫শ’ টাকা এবং গরু বিতরণে ৫ হাজার ৫শ’ টাকা করে অনৈতিক সুবিধা চান তিনি। এতে লোকজন রাজি না হলেও ওই এলাকার শতাধিক গরিব-অসহায় পরিবার ধারদেনা করে কিংবা জমি বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করে চঞ্চল কুমার রায়কে প্রায় অর্ধকোটি টাকা প্রদান করে। এরপর থেকে তিনি গ্রামে আসা বন্ধ করে দেন।
পরে চঞ্চলের দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী সদর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজারে গিয়ে জানা যায়, এ নামে কোনো অফিস নেই। এরপর থেকে আত্মগোপনে চলে যান চঞ্চল। এ নিয়ে প্রতারণার শিকার স্থানীয় লোকজন জনপ্রতিনিধিসহ থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করে।
এরই প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সদর থানার একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাত থেকে ঢাকার আশুলিয়ায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই আকতার, এসআই জিয়া, এএসআই শাহীন ও এএসআই আরিফ। রাতভর অভিযান চালিয়ে আশুলিয়ার শিমুলতলী এলাকার একটি বেসরকারি গার্মেন্টস কারখানা থেকে চঞ্চল কুমার রায়কে গ্রেপ্তার করে এই বিশেষ টিম। পরে রাতেই তাকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার জানান, এ ঘটনায় পেনাল কোড ৪০৬/৪১৯ ও ৪২০ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেছেন সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মধ্য কুমরপুর এলাকার মহিজ উদ্দিনের ছেলে হাফেজ উদ্দিন। মামলা নং-২৪। এ ছাড়া অর্থ উত্তোলনে জড়িত একই এলাকার উপীন সরকারের ছেলে নারায়ণ (৪৪) ও অমূল্য সরকারের ছেলে নিশি (২৬) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।