বগুড়ায় ৮৮ কিলোমিটার গতির ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি গাছ পরে ২জনের মৃত্য

স্টাফ রিপোর্টার:বগুড়ায় প্রচন্ড গতির ঝড়ে ইরি-বোরো ধানসহ গাছপালা ও বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে পুরো জেলার ওপর দিয়ে ঝড় আঘাত হানে।জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার পরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে শুরু হয় বৃষ্টি। ভোররাত ৪টা থেকে ৪টা ৪ মিনিট পর্যন্ড ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ৮৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার। যা এই মৌসুমে সর্বোচ্চ গতিবেগের ঝড়। এছাড়া রাতে ঝড়ের সাথে জেলায় ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে বগুড়া আবহাওয়া অফিস।এভাবে কালবৈশাখীর ছোবলে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক বসতবাড়ি ও বোরো ধানসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।কালবৈশাখীর ছোবলে বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বেশ কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। ফলে জেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।এছাড়া একদিকে বসতবাড়ি লন্ডভন্ড অন্যদিকে কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলার আগেই শেষ। ফলে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি শঙ্কা করছেন জেলার কৃষকরা।বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা এলাকার রহিম মন্ডল বলেন, রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। ঝড়ে গাছপালা পড়ে অনেকের বাড়ি ঘরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকা বোরো ধান সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। যে ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। সেই ধান আজ ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে।নন্দীগ্রামের কৃষক নুরে আলম জানান, কয়েক দিন আগে ঝড়ে তার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবার ঝড়ে বাকিটাও শেষ হয়েছে। এখন কি খেয়ে জীবন চলবে তা নিয়ে বড় চিন্তায় তিনি।ধুনটের কৃষক ইসলাম আলী বলেন, তিন বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা জমির ধান ঘর করেছি। বাকিটা ঝড়ের কবলে পড়ে মাটিতে মিশে গেছে।এদিকে, বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ইউসুফ রানা মন্ডল বলেন, গত রাতের ঝড়ে ঘরে তোলার জন্য প্রস্তত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে কাজ চলছে।বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, শনিবার ভোর রাত ৪টায় ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। মাত্র ৪ মিনিট স্থায়ী ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ৮৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার। তিনি বলেন, ৪টা ৪ মিনিটে বাতাসের গতিবেগ কমে আসলে শুরু হয় বৃষ্টিপাত। ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দমকা বাতাসের পাশাপাশি ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।নর্দান পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়া ছাড়াও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের তারে। ফলে ভোর রাত ৪টা থেকে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, সকাল থেকে কাজ চলছে, পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। জানাগেছে, ঝড়ের সময় কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের কালাই মাঝপাড়া গ্রামে একটি ঝুপড়ি ঘরে তিনজন শ্রমিক অবস্থান করছিলেন। ঝড় শুরু হলে দুইজন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও শাহীন ঘরেই অবস্থান করছিলেন। ঝড়ে ঘরসংলগ্ন একটি পাকুড় গাছ ভেঙে পড়লে ঘরসহ চাপা পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত শাহীন আলম ওই গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে।কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমবার হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।অপরদিকে শাজাহানপুর উপজেলার বৃকুষ্টিয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আন্দুল হালিম (৫০) গাছ চাপা পড়ে মারা যান। তিনি বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে মালি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।