বগুড়ায় দিন-দ্যা ডে ছবির প্রচারণায় অনন্ত-বর্ষা: প্রতিবন্ধী ভক্তকে দিলেন ২ লাখ টাকা

সঞ্জু রায়: পবিত্র ঈদুল আজহায় সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে ব্যয়বহুল ছবি ‘দিন-দ্যা ডে’। আর এই ছবির প্রচারণা এবং প্রতিবন্ধী এক ভক্ত রানার সাথে দেখা করতে বগুড়ায় ছুটে এসেছিলেন এই সময়ের সাড়া জাগানো নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল এবং চিত্রনায়িকা বর্ষা। ভক্তদের সাথে ছবি দেখা থেকে শুরু করে হাসিমুখে সকলের সাথে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী এক ভক্তকে চিকিৎসার জন্যে নগদ ২ লাখ টাকা দিয়ে বগুড়াবাসীর মন জয় করে নিয়েছে অনন্ত-বর্ষা জুটি।
বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টায় বগুড়া মধুবন সিনেপ্লেক্সে এসে দর্শকদের অবিরাম ভালোবাসার সাথে সকলকে সাথে নিয়ে দিন দ্যা ডে ছবি দেখেন এই জুটি। গাড়ি থেকে নেমেই নায়ক অনন্ত জলিল দর্শক ও সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং সকলকে সাথে নিয়ে প্রবেশ করেন সিনেপ্লেক্সে। ছবি শুরুর আগে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বরাবর বিগ বাজেটের বিভিন্ন ছবি নির্মাণ করে সাড়া ফেলা এই নায়ক।
অনন্ত জলিল সাংবাদিকদের বলেন, কাহিনী নির্ভর ও ব্যয়বহুল সিনেমা ‘দিন—দ্যা ডে’ সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এই সিনেমার অধিকাংশ শুটিং করা হয়েছে তুরস্ক, ইরান ও আফগানিস্তানে। ছবিটিও পরিচালনা করেছেন ইরানী স্বনামধন্য পরিচালক। তিনি বলেন, সকল সমালোচনা কে উপেক্ষা করে প্রতিটি হলে সাধারণ দর্শক বেশ উপভোগ করছে এই সিনেমাটি যা দেশের সিনেমা জগতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের মানুষ সর্বদাই ভাল-মন্দ যাচাই করে ভাল জিনিস সর্বদাই সাদরে গ্রহণ করতে জানে। এছাড়াও তিনি বগুড়ায় এসে মধুবন সিনেপ্লেক্স এর সৌন্দর্য ও আধুনিকতায় মুগ্ধতা প্রদর্শন করেন। তিনি বলেন, বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সে অনেক সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ। ঢাকার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। সিনেপ্লেক্সের আসনের মান ও বিন্যাস, লাইটিং এবং সার্বিক ডিজাইন দেখে মনে হচ্ছে দুবাইয়ের কোন সিনেমা হলে বসে আছি। তিনি উত্তরবঙ্গে দর্শকদের বিনোদনের কথা চিন্তা করে এত সুন্দর সিনেপ্লেক্স নির্মাণের জন্যে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
এসময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে চিত্রনায়িকা বর্ষা বলেন, তিনি বগুড়ায় এর আগেও অনেকবার এসেছেন। বগুড়াবাসীর ভালবাসায় তিনি সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে সকল দর্শককে দিন দ্যা ডে ছবি দেখার জন্যে তিনি আমন্ত্রণ জানান।
আলোচনা—সমালোচনা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে অনন্ত জলিল বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমাকে নিয়ে সমালোচনা করেন, তাতে আমি মনে কিছু করি না। অনেকেই আমাকে ভালো বলে, একজন মন্দ বললে কিছু যায় আসে না। তিনি বলেন যারা তার নামে বিভিন্ন মিথ্যাচার করছে তাদের যেন আল্লাহ হেদায়েত দান করেন। এসময় অনন্ত—বর্ষার সাথে মধুবন সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সায়েখউজ্জামান ইউনুস রোহান এবং আকিব জামান।
এর আগে হেলিকপ্টারে বগুড়ার কাহালুতে প্রতিবন্ধী ভক্ত সোহেল রানাকে (২৫) দেখতে যান চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা বর্ষা। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাদের হেলিকপ্টারটি উপজেলার কালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় অবতরণ করে। তাদের ভক্ত কাহালু উপজেলার নিমারপাড়া গ্রামের মোজামের ছেলে প্রতিবন্ধী সোহেল রানার মাধ্যমে খবর পেয়ে অনন্ত জলিল ও বর্ষাকে একনজর দেখার জন্য অনেক আগে থেকেই কালিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অসংখ্য মানুষ জমায়েত হয়। অনন্ত জলিল ও বর্ষার সঙ্গে অনেক আগে থেকেই সোহেল রানার পরিচয়। সেই পরিচয়ের সুবাদে অনন্ত জলিল ও বর্ষা এখানে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টা তারা সেখানে ছিলেন। পরে রানাকে সাথে নিয়েই মধুবনে সিনেমা দেখেন অনন্ত ও বর্ষা। শেষে সিনেপ্লেক্স প্রাঙ্গণেই  প্রতিবন্ধী ভক্ত সোহেল রানার চিকিৎসা বাবদ নগদ দুই লাখ টাকা তার হাতে তুলে দেন অনন্ত জলিল। একই সাথে দ্রুততম সময়ে রানার পাসপোর্ট করে তাকে তার নিজ খরচে থাইল্যান্ডে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোরও প্রতিশ্রম্নতি দেন অনন্ত জলিল।
ভক্ত রানার প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল বলেন, তার প্রথম ছবি খোঁজ দ্য সার্চ রিলিজের পর থেকেই রানা তাদের নিস্বার্থ এক ভক্ত হিসেবে সদা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। শুধু তাই নয় তার অজান্তেই তার নামে রানা তার এলাকায় নানামুখী সমাজসেবামূলক কাজ করেছেন যা তার মনে দাগ কেঁটেছে। শুধু তাই নয় এমনকি কোরবানী ঈদে তার নামে এই অসহায় ছেলেটি কোরবানীও করেছে যা ভক্তের নিকট থেকে বিশাল প্রাপ্তি। তিনি রানার মতো সকল ভক্তের প্রতি ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন ভক্তদের ভালবাসায় তারা আজ এতদূর।
এদিকে অনন্ত জলিল ও বর্ষার বগুড়ার আগমনের পর থেকেই সাধারণ দর্শকদের মাঝে এক অন্যরকম উন্মাদনা চোখে পড়েছে। নায়ক জলিলের সাথে সাথে সারাদেশে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে অনন্ত জলিলের যে খ্যাতি রয়েছে সেজন্যে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্তবৃন্দ ছুটে এসেছিলো তাদের পছন্দের নায়ক-নায়িকাকে এক নজর দেখতে ও ছবি তুলতে। দিনশেষে অনন্ত ও বর্ষার সাধারণ মানুষের সাথে যে আন্তরিক ব্যবহার ও সম্মান যাতে বগুড়ায় হাজারো ভক্তবৃন্দের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন তারা।
এদিকে বগুড়া থেকে বিদায়ের আগে অনন্ত জলিল ও বর্ষা জুটি বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবত্তীর্ বিপিএম এর সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় জেলা পুলিশ সুপার তাদের জেলা পুলিশের পক্ষে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এবং আগামীর জন্যে শুভ কামনা জানান। বাংলাদেশ পুলিশের অসাধারণ কর্মদক্ষতা ও বিভিন্ন অভিযান নির্ভর দিন দ্যা ডে ছবিটি দেখার জন্যে সাক্ষাৎকালে অনন্ত জলিল জেলা পুলিশ সুপার ও তার সকল পুলিশ সদস্যকে আমন্ত্রণ জানান।