পিতার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ সুমাইয়ার

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ,ঘোড়াঘাট ( দিনাজপুর)-দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পিতার লাশ বাড়িতে খাটে রেখে পরিক্ষায়  সুমাইয়ার অংশ গ্রহণ । আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। চোখের পানি চোখে রেখেই হাতে প্রবেশপত্র নিয়ে পরিক্ষা কেন্দ্রে সুমাইয়া ইয়াসমিন (১৭)।
সুমাইয়া ইয়াসমিন রাণীগঞ্জ আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের নিয়মিত ছাত্রী। সে প্রথম শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে।সে ভর্ণাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এস এস সি পরীক্ষার্থী।
সুমাইয়া দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কশিগাড়ী গ্রামের রাজা সরকারের মেয়ে। সে ভর্ণাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এই বছর এসএসসি পরিক্ষা দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে সুমাইয়ার বাবা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়। সকালে সুমাইয়ার ইংরেজী দ্বিতীয় পত্র পরিক্ষা ছিল।
তার বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সকালেই ভর্ণাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং সুমাইয়ার কয়েকজন সহপাঠী তার বাড়িতে যায়। অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা সুমাইয়াকে শান্তনা দিয়ে পরিক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। রাণীগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিক্ষা কেন্দ্রে সুমাইয়া পরিক্ষা দেয়।
সুমাইয়া পরিক্ষা দিয়ে দুপুরে বাড়িতে ফিরলে বাদ যোহর তার পিতার রাজা সরকারের দাফন সম্পন্ন হয়।
সুমাইয়ার বড় ভাই রানা সরকার বলেন, সকালে স্কুল থেকে সুমাইয়ার শিক্ষকরা আসে এবং তারা তাকে বিভিন্ন ভাবে শান্তনা দিয়ে পরিক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরীক্ষা শেষে আমার ছোট বোন বাড়িতে ফেরার পর আমরা পারিবারিক কবর স্থানে আমাদের পিতার দাফন সম্পন্ন করেছি। মোটামুটি ভালো পরিক্ষা দিয়েছে আমার বোন।
এদিকে রানীগঞ্জ দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব মহি উদ্দিন মিয়া জানান, যথা সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সুয়াইয়া পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। পিতা মারা যাওয়ায় সে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছিল। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজ খবর নিয়েছি।