‘ভূমি আন্দোলনের সাথে খাদ্য সার্বভৌমত্বের সম্পর্ক কি?’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি-আজ ১৫ অক্টোবর ২০২২, বেলা ১১টায় বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি অফিস  হলে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের  আয়োজনে ‘ভূমি আন্দোলনের সাথে  খাদ্যসার্বভৌমত্বে সম্পর্ক কি?’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের জেলা সভাপতি  লস্কর মোঃ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মজিবুর রহমানের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য  বক্তব্য রাখেন বরগুনা সদর উপজেলা বিআরডি চেয়ারম্যান জনাব এবিএম রুহুল আমিন, বরগুনা সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের  অফিসার জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বদরুল আলম, বিষয় ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান,আরো বক্তব্য রাখেন  সম্মানিয় অতিথি  মাদারল্যান্ড  গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল আমিন,বিআরডিবি পরিচালক শাহজাহান নায়েক, কৃষক নেতা ফজলু রহমান  মুন্সি, কিষাণী নেত্রী রহিমা বেগম,রেজোয়না বেগম, প্রমূখ।

প্রবন্ধে উল্লেখ করেন খাদ্যসার্বভৌমত্ব ধারণাটি একটি আন্তর্জাতিক প্রচার অভিযান।১৯৯৬ সালে ইতালির রোমে বিশ্বখাদ্য সম্মেলন হতে শুরু হয়।নয়া উদারনৈতিক বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে দুনিয়ার কৃষক সংগঠন আন্তর্জাতিক লা ভিয়া ক্যাম্পেসিনা কর্তৃক প্রথম দুনিয়ার কৃষকদের স্বার্থ,অস্তিত্ব ও জীবন -জীবিকা রক্ষার জন্য খাদ্যনিরাপত্তার ধারণার বিকল্প হিসেবে উত্থাপন করা হয়। খাদ্যসার্বভৌমত্ব আন্দোলন একটি বিশ্ব আন্দোলন। খাদ্য সার্বভৌমত্বের ধারনার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ ২০১৮  সালে  কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবন জীবীকার ও অধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করে একটি ঘোষণা পাস করে। স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এ ঘোষণা  বাস্তবায়ন করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সরকারকে উল্লেখিত ঘোষণার সাথে সঙ্গতি রেখে নীতিমালা প্রনয়ন করতে হবে যা কৃষকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

ইতিমধ্যে  আফ্রিকা মহাদেশের মালিতে কৃষিনীতিমালায় খাদ্যসার্বভৌমত্বের নীতিকে অন্তর্ভুক্ত  করেছে।নেপালে খাদ্য ও নিউট্রিশন সার্বভৌমত্বের ধারণাকে দেশের জাতীয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে এবং আইন হিসাবে  পাশ করার পরিকল্পনা করছে।
খাদ্যসার্বভৌমত্ব বলতে আমরা যা বুঝি তা হচ্ছেঃ ১) ভূমির উপর কৃষকের পূর্ণ অধিকার থাকতে হবে।(২) কি ধরনের ফসল উৎপাদন করবে তার পছন্দের অধিকার কৃষকের থাকতে হবে। (৩)সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহনযোগ্য খাদ্য উৎপাদনের অধিকার থাকতে হবে।

১৯৯৭ সালে ভূমিনীতিমালা মোতাবেক প্রতি ভূমিহীন পরিবারকে ১.৫ একর করে খাস জমি দেয়া হয়। এ অল্প পরিমাণ জমি একদিকে যেমন একটি ভূমিহীন পরিবারকে জীবীকার নিশ্চয়তা দেয় অন্যদিকে তেমনি তাকে মর্যাদার জীবন দান করে।খাদ্যসার্বভৌমত্বের মূল লক্ষ্য যেহেতু জমির মাধ্যমে কৃষকের ক্ষমতায়ন সেহেতু জমির আন্দোলনের সাথে এর নিবিড় সম্পার্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরও অগ্রসর করার জন্য একটি সমন্বিত  ভূমি সংস্কার তথা কৃষি সংস্কার করতে হবে।