বগুড়া জেলা বিএনপির নির্বাচনে মনোনয়ন পত্রই কিনতে লাগবে লাখ টাকা

স্টাফ রিপোর্টার:তিন মাসের জন্য গঠিত বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সম্মেলন ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কমিটির বয়স সাড়ে ৩ বছর পর ।এ ব্যাপারে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী সোমবার থেকে মনোনয়ন পত্র বিক্রির মাধ্যমে শুরু হবে নির্বাচনী কার্যক্রম।এছাড়া ১৮ অক্টোবর মনোনয়ন পত্র দাখিল, ১৯ অক্টোবর যাচাই বাছাই, ১৯ তারিখে মনোনয়ন চুড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ শেষ হবে।২ নভেম্বর বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বগুড়া জেলা বিএনপির সম্মেলন ও নির্বাচন।এদিকে এই নির্বাচনে মনোনয়ন পত্রের মুল্য ও চুড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে অস্পষ্ঠতা এখনো কাটেনি বলে অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনে অংশ গ্রহনে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে।অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাফতুন আহম্মেদ খান রুবেল বলেন ভোটার তালিকা মনোনয়ন ক্রয়ের দিনে সরবরাহ করা হবে।আনঅফিসিয়াল একটি সুত্রে জানাগেছে, বগুড়া জেলা বিএনপির নির্বাচনে সভাপতি পদে মনোনয়ন পত্রের দাম ৩ লাখ টাকা, সাধারণ সম্পাদক পদে ২ লাখ টাকা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।আরেকটি সুত্র জানিয়েছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন পত্রের দাম ১ লাখ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৫০ হাজার টাকা মুল্য ধরা হয়েছে।মনোনয়ন পত্রের উচ্চমুল্য সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সভাপতি প্রার্থী যথাক্রমে ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল ও জয়নাল আবেদীন চান সহ অনেকেই ।জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা সাবেক পৌর মেয়র এ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, সংসদ, জেলা পরিষদ ও পৌর মেয়র পদেও কি এতটাকায় মনোনয়ন বিক্রি হয় ? তিনি বলেন, আমি মনোনয়ন পত্রের মুল্য স্বাভাবিক ও যুক্তি সংগত করতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে পরামর্শ দিয়েছি।তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সুত্র জানিয়েছে, নির্বাচন ও সম্মেলনের ব্যয় নির্বাহের জন্যই মনোনয়ন পত্রের উচ্চমুল্য ধরা হয়েছে।এই নির্বাচনে সভাপতি পদে জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান প্রতিদ্বন্দিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপি নেতা আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং এম আর ইসলাম স্বাধীন প্রতিদ্বন্দীতা করবেন।এদিকে ইতোপূর্বে অনুষ্ঠিত বগুড়া জেলা বিএনপির ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌর কমিটির নির্বাচনগুলোতে যারা সভাপতি / সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন তাদেরকে নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে ভোট করতে দেওয়া হয়নি।এখন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পৌর মেয়র পদে থেকেও রেজাউল করিম বাদশা কিভাবে সভাপতি পদে ভোট করবেন এমন প্রশ্নে জর্জরিত হচ্ছেন তিনি।বিষয়টি লন্ডনে তারেক রহমানের কাছেও উত্থাপিত হয়েছে। সেন্ট্রাল বিএনপির একটি সুত্র গতকাল রবিবার বিকেলে নিশ্চিত করেছেন সভাপতি পদে ভোট করতে হলে রেজাউল করিম বাদশাকে আহ্বায়কের পদ ছাড়তে হবে।এসম্পর্কে খোঁজ নিলে রেজাউল করিম বাদশার অতি ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানান, তিনি মনোনয়ন পত্র ক্রয়ের আগে নিজের পদত্যাগ পত্র জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের কাছে জমা দেবেন।উল্লেখ্য বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৫ মে ২০১৯ তারিখে বগুড়া জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।সাবেক সংসদ সদস্য ও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা জি এম সিরাজকে দলের আহ্বায়ক ও পরে বগুড়া সদর আসনের সংসদীয় উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে জি এম সিরাজ দীর্ঘ সময়েও দলের সম্মেলন ও নির্বাচন আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে আহ্বায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। নতুন আহ্বায়ক করা হয় রেজাউল করিম বাদশাকে।