অলি আহাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা পেলে গণতন্ত্র ও জনগনের রাজনীতি বিকাশ লাভ করবে-সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি-আদর্শিক রাজনীতির ধ্রুবতারা অলি আহাদ। তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও নির্দেশনা আমাদেরকে সুস্থ রাজনৈতিক ধারা প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা জোগায়। অলি আহাদের ধ্যান—ধারণার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হলে গণতন্ত্র ও জনগনের রাজনীতি বিকাশ লাভ করবে।

আজ ২০ অক্টোবর’২২ (বৃহস্পতিবার) ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাবেক সভাপতি অলি আহাদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ডেমোক্রেটিক লীগ (ডি.এল)’র উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি উপরোক্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি বলেন, ২০১২ সালের এই দিনে সকালে অলি আহাদ মৃত্যুবরণ করেন। অলি আহাদের জন্ম ১৯২৮ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। মেধাবী ছাত্র অলি আহাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.কমে ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট হন। কিন্তু ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তিনি এম.কম ডিগ্রী লাভ থেকে বঞ্চিত হন। তাঁর লেখা বই ‘জাতীয় রাজনীতি ৪৫—৭৫’ ইতিহাসের এক অনন্য দলিল। কর্মজীবনে তিনি ‘ইত্তেহাদ’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

তিনি বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি করে ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতার জন্যই দেশের রাজনীতি আজ দুর্বৃত্তদের দখলে। অলি আহাদের মতো ত্যাগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা হলে দেশের কল্যাণ অবিসম্ভাবী। রাজনীতি ছিল নিঃস্বার্থ সেবা, আজ রাজনীতি বানিজ্য। এই বানিজ্যের রাজনীতি থেকে জনসেবার রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অলি আহাদের আদর্শের বিকল্প নেই। দেশে যে গণতন্ত্রহীনতা চলছে সে অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য আজ অলি আহাদের মতো সাহসী নেতার বড়ই প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সকল স্বৈরাচার একই কায়দায় দেশ শাসন করে। দেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দলীয় কর্মচারী নয়। কিন্তু স্বৈরশাসকরা তা মানতে চায় না। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চাকরি টিকিয়ে রাখতে স্বৈরাচারদের কাছে প্রতিনিয়ত দলীয় আনুগত্য প্রমাণ করতে হয়। যার ফলে দেশে দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। বিরোধী দলের সভা—সমাবেশকে নানা কায়দায় বাধাগ্রস্ত করার স্বৈরাচারের চিরাচরিত চরিত্র। কিন্তু স্বৈরাচারের শেষ রক্ষা হয় না, ইতিহাস তাই বলে।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খোকন চন্দ্র দাস, অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন, মেহরাজ আহসান, ইয়াহিয়া মুন্না, আল—আমিন, মনির হোসেন, এহসানুল কবির দুলাল প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে অলি আহাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।