বামগণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার দাবিতে-বগুড়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের গণপদযাত্রা

প্রেস রিলিজ-পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিত্যপণ্যের দাম কমানো,গ্রাম শহরের রেশনিং চালু, দুনীতি-দুঃশাসনের অবসান ও বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার  দাবিতে -বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্র  ঘোষিত দেশব্যাপি গণপদযাত্রা কর্মসূচির অংশহিসাবে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ-২২ অক্টোবর’২২  সকাল ১১ টায় সাতমাথায় সমাবেশের মাধ্যমে গণপদযাত্রা শুরু হয়ে দত্তবাডী, জজ কোট চত্ত¡র, ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়, পৌরপার্ক দক্ষিন গেট  ও  প্রেসক্লাবের সম্মুখে এসে সমাপনী সমাবেশর মাধ্যমে শেষ হয়। গণপদযাত্রা চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেণ বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার অন্যতম নেতা বাসদ বগুড়া জেলার সদস্যসচিব কমরেড এ্যাড.দিলরুবা নূরী। গণপদযাত্রা সাতমাথা, দত্তবাডী, জজ কোট চত্ত¡র, ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়, পৌরপার্ক দক্ষিন গেট ও প্রেসক্লাবের সমাবেশে যথাক্রমে বক্তব্য রাখেন সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য সাইফুজ্জামান টুটুল, মাসুদ পারভেজ, সিপিবি সদর উপজেলা সভাপতি শাহনেওয়াজ কবির খান পাপ্পু,  সিপিবি  নেতা  হাসান আলী শেখ, বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য শ্যামল বর্মন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না বলেন, “দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নে দেশের মানুষ এক সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটাসহ জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। এর ফলে শ্রমিক, কৃষক, নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগের কোনো সীমা নেই। দেশে ধনী-গরীবের বৈষম্য দিন দিন বেড়েই চলছে। দলীয় মাস্তান ও সামরিক বেসামরিক আমলাদের উপর নির্ভর করেই ক্ষমতায় বসেছে। গত ৫১ বছরের অভিজ্ঞতা প্রমান করেছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন  সুযোগ নেই। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এই অগণতান্ত্রিক অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মুক্তি যুদ্ধের চেতনা আজ ভুলন্ঠিত। মুক্তি যুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। তাই, তিনি লুটেরাদের বিপরীতে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলতে জনগণের প্রতি আহŸান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড দিলরুবা নূরী বলেন, সরকার গত ২০২১ সালের নভেম্বর মাসেই ডিজেল লিটার প্রতি ১৫ টাকা, গত জুন মাসে গ্যাসের দাম এবং আগষ্ট মাসে ইউরিয়া সারের কেজি প্রতি ৬ টাকা এবং বিইআরসির গণশুনানী না করিয়ে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রল এর দাম বাড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ মানুষের জীবন-যাপন দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে দেশে এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে তা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ না নিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারি দল উল্টো যাবতীয় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সুযোগ সুবিধার অপব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০১৪ ও ২০১৮ ন্যায়  নির্বাচনের আয়োজন করতে চাচ্ছে। গাইবান্ধা উপনির্বাচন আরও স্পষ্ট করেছে যে নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু , মুক্ত পরিবেশে ভোট প্রদান ও নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বলে দেশে আর  কিছু অবশিষ্ট নেই। তাই অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে, নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, গ্রাম শহরের রেশনিং চালু, দুনীতি-দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে এই রাজনৈতিক সংকটের সমাধানের মাধ্যমে জনগণকে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে জনগণের প্রতি আহŸান জানান ।
পদযাত্রার পথসভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সমগ্র নির্বাচনি ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দল দেশে আরও একটি একতরফা নির্বাচনের আয়োজন সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে নির্বাচনে সরকারি দলকে ডিজিটাল কারচুপির সুযোগ করে দিতে নির্বাচন কমিশন ১৫০টি আসনে ইভিএম ব্যবস্থা চালু করতে চাই। নির্বাচন পুরোপুরি টাকার খেলায় পর্যবসিত হয়েছে। ভোটের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ এই সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ছাড়া গণতান্ত্রিক পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নিবার্চনের কোন অবকাশ নেই। এ কারণে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বে জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সকল দল ও সমাজের  অপরাপর অংশের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনসহ গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তাই নেতৃবৃন্দ গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করার দাবি জানান।