তানোরে বাড়তি দামে ওএমএসের চাল বিক্রি

তানোর প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে ওএমএসের চাল নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ডিলার সুনিল দাসের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে পৌর সদর শিতলী পাড়ার বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবী বাড়তি দামে চাল কিনে নিয়ে আসেন বলে নিশ্চিত করেন। তবে তারা একসাথে ৩০ কেজি চাল কিনার জন্য বাড়তি দাম নিয়েছেন। এতে করে সরকারের মহৎ কাজকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে ফেলেছেন ডিলার। ফলে এসব অসাধু সিন্ডিকেট ডিলারকে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি তুলেছেন। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে উপজেলার দুটি পৌরসভায় ছয়জন ডিলারের মাধ্যমে বিশাল ভুর্তুকিতে মাত্র ৩০ টাকা কেজি দরে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়। প্রথম থেকেই ওএমএসের চাল কালো বাজারে বিক্রি, জেলার নওহাটায় তানোরের ওএমএসের চাল আটক, জরিমানায় ছাড়সহ ইত্যাদি ইত্যাদি অভিযোগের শেষ নেই। সপ্তাহে একজন ডিলার ১০ টন করে চাল তুলতেন। কিন্তু বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা সংকটের কারনে বর্তমানে ১ টন করে কমিয়ে ৫ টন করে চাল পাচ্ছেন। বছরের এসময়টা নিম্ম মধ্যবিত্ত থেকে শুরু সবাই অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে দিন পার করে। বিশেষ করে এ উপজেলার জনসাধারন কৃষির উপর নির্ভর। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে প্রচুর সমস্যায় দিন অতিবাহিত করে থাকেন। আর এবছর সকল ধরনের পণ্যের দ্বিগুন দাম। যার কারনে ভুর্তুকির মাধ্যমে ৩০ টাকা কেজির ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়। প্রতি জন ৫ কেজি করে চাল কিনতে পারবেন। তানোর পৌরসভায় তিন ও মুন্ডুমালা পৌরসভায় তিনজন ডিলার রয়েছেন। অবশ্য সবাই ক্ষমতাসীন দলের এজন্য ওপেন সিন্ডিকেট। তানোর পৌরসদর একে সরকার সরকারী কলেজের সামনে ডিলার সুনিলের পয়েন্ট। দরিদ্র অসহায় মৎস্যজীবী শীতলী পাড়াগ্রামের বাসিন্দা মজিদুল ইসলাম বিশু জানান, গত সপ্তাহে সুনিলের কাছে ওএমএসের চাল কিনতে যায়। তার ঘরে অনেক চাল ছিল। এজন্য ৩০ কেজি চাল কিনার কথা বললে সুনিল ১১০০ টাকা দিলে দিবে। বাধ্য হয়ে ১১০০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজি চাল কিনতে হল। কঠিন সমস্যার কারনে ওএমএসের ৩০ টাকা কেজির চাল ৩৬ টাকা ৭০ পয়সা করে কিনতে হল। এত মোটা চাল রাতে আর সকালে খাওয়ার পর অন্য জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। আমার ছেলেসহ আরো কয়েকজন ১১০০ টাকা করে ৩০ কেজি করে চাল কিনেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে খাচ্ছে। কিন্তু এত মোটা চাল আমাদের এলাকার না, এসব চাল এলো কিভাবে। এত টাকা দিয়ে কিনে খাওয়া যায় না। ডিলার সুনিল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব মিথ্যা খবর, ৫ কেজি করে দিয়ে শেষ করতে পারছিনা বলে দম্ভক্তি দেখান। অবশ্য সুনিল উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা, তিনি এধরনের কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। গত বছরে কাশিম বাজারে পয়েন্টের ডিলার যুবলীগ নেতা আলফাজ চাল পাচারের সময় ধরা পড়লেও নামমাত্র জরিমানা দিয়েই খালাস। আরো কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছিল। কিন্তু তারাই বহাল। সিন্ডিকেট, বাড়তি দাম, অন্যত্র বিক্রি এসব স্বাভাবিক ব্যাপার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পংকজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, আমি বিষটি খোজ খবর নিচ্ছি, যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা।