আদিতমারীতে জোরপূর্বক দোকান দখলের পায়তারা

জেলা প্রতিনিধি,লালমনিরহাট-লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অসহায় কৃষকের মুদি দোকান জোর পূর্বক দখল চেস্টার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে থানা ও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহ আলম। তবে অব্যাহত হুমকি ধমকি ও প্রভাবশালীদের দখলচেষ্টায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ওই পরিবার।
লিখিত অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী কলতারপাড় এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম প্রায় ১৬ বছর আগে ৬ টি দাগে পৌনে সাত শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এর একাংশে স্থানীয় কলতারপাড় বাজারে মুদি দোকান দিয়ে ছেলে মেয়ের পড়াশুনা ও সংসার চালান। কিন্তু সম্প্রতি ওই এলাকার বিদেশ ফেরত প্রভাবশালী আফছার আলী মজু ও তার দুই পুত্র হামিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম দোকানের জায়গাটি নিজেদের বলে জায়গা ছেড়ে দিতে বলে। ক্রয়সূত্রে জমির মালিক তিনি জানালে হুমকি ধমকি দেয়। পরে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে উক্ত দোকানের জায়গা বিক্রির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই জায়গা বিক্রিতে অস্বীকার করলে প্রভাব খাটিয়ে দোকানের সামনে দিয়ে ইট গেথে দেয়াল তুলে দখলের চেস্টা করে। বাধ্য হয়ে পুলিশের জরুরি সহায়তা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে পুলিশ ডেকে নিলে পুলিশ সেই দেয়াল ভেঙ্গে দেয়। এক পর্যায়ে দোকান দখল নিতে তালা লাগিয়ে দিলে পুলিশ সে তালা খুলে দেয়।
স্থানীয় প্রভাবশালী ভাড়াটিয়াদের সহায়তায় মজু তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় ও শাহ আলমের ভাইকে মারধর করে। বর্তমানে প্রতিনিয়ত সেখানে প্রভাব খাটিয়ে দিন রাত দোকান দখলের চেস্টা করছে মজু চক্র। এ অবস্থায় শাহ আলম ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী শাহ আলম জানান, আমি ক্রয় সূত্রে দোকানের জমির মালিক। নদী ভেঙ্গে দোকান করে সংসার চালাই। আমাকে জোর করে ওই জমি লিখে দিতে বলেছিলো। আমি দেইনাই তাই জাল কাগজ দেখিয়ে মাস্তান দিয়ে দখল করার চেস্টা করছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আমি পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতে চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হামিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নাই। মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, জরুরি সহায়তা লাইনে ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। যাতে কোন আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় সেজন্য দুই পক্ষকে বলা হয়েছে। জমিজমার বিষয় আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।