লালমনিরহাট সীমান্তে হাসি-কান্নার উৎসব

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট-লালমনিরহাটের সীমান্তে সনাতন ধর্মালম্বীদের কালীপূজা উপলক্ষে দুই দেশের মানুষের হাসি-কান্নার মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) জেলার পাটগ্রাম উপজেলার নবীনগর-বাউরা ও জুম্মাপার সীমান্তে এ মিলন মেলা বসে।
দুই বাংলার মানুষ তাদের স্বজনদের একটু দেখতে,কথা বলাতেই দুর দুরান্তে থেকে ছুটে এসে মিলিত হন কাঁটাতারের বেড়ার কাছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বিজিবি শীতলতার কারণে সীমান্তের সানিয়াজান নদীর হাটু জল চা বাগান পেড়িয়ে ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার কাছে দুই বাংলার মিলনমেলা বসে। স্বজনদের দেখে কেউবা কুশল বিনিময়। কেউবা মেয়ে বাবাকে দেখে বাবা মেয়েকে দেখে কান্না করতে দেখা গেছে।
দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিনিময় হচ্ছে খাদ্যসামগ্রী। কেউ বা নিজের আত্মীয় স্বজনের জন্য খাবার তৈরি করে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এনে খেতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার জুম্মার পার নবীনগর-বাউরা সীমান্তের মেইন পিলার ৮৪০ এর সাব পিলার  কাছে  ভারতীয় কুচলিবাড়ী ৪০ বিএসএফ ক্যাম্পের নিকট সনাতন ধর্মালম্বীদের কালীপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মানুষের মধ্যে মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ভারতীয় কুচলিবাড়ী ৪০ বিএসএফ ক্যাম্পের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে থেকে আসা শিশু কিশোরসহ অন্যনদের মধ্যে (প্রসাদ) খাবার পরিবেশন করা হয়। দুই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকজন তাদের আপনজনদের দেখে আবেগ আপ্লত হন ও কুশল বিনিময় ও উভয়ে খাবার,ফল বিনিময় করেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের বালিশের গ্রামের কল্পনা রানী বলেন, তিন বছর পর নিজের বোনের সাথে দেখা করলাম এই কাঁটাতারের বেড়ার কাছে।অনেক ভালো লাগছে প্রতিবছর যেন এভাবে সুযোগ করে দেয় আমাদের দেখা করার জন্য।
হাতীবান্ধার বড়খাতা ইউনিয়ন থেকে আসা শ্রী সুদর্শন বলেন, ভারতে আমার ভাগনী থাকেন তাদের সাথে দুই বছর পর দেখা হল। অনেক ভাললাগছে।
এ বিষয়ে বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম মিলন জানান,প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কালীপূজায় সীমান্তে মিলন মেলা বসেছে।  এতে দুই বাংলার মানুষের মাঝে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। অনেকেই পাসপোর্ট ভিসা করতে না পেরে প্রতিবছর আশায় থাকে কালী পূজার  মিলন মেলার জন্য।

সর্বশেষ সংবাদ