বগুড়ায় বর্জন উপেক্ষা করে ভাতা নিলেন ইউপি সদস্যরা: চেয়ারম্যানদের ভূমিকায় অসন্তোষ

স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়া সদরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সমর কুমার পালের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষিত বর্জন কর্মসূচির মধ্যেই সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন সদরের অধিকাংশ ইউপি সদস্যরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদে এসে সদরের ১১টি ইউনিয়নের ১৩১ জন সদস্যর মধ্যে মধ্যে প্রায় ৮০ জন সরকারি এই ভাতা গ্রহণ করেন এবং বাকিরাও ভাতা নেবেন বিভিন্ন ব্যস্ততায় তারা মঙ্গলবার আসতে পারেননি বলে জানান ভাতা গ্রহণকারী ইউপি সদস্যদের অনেকে।  এরমধ্যে পুরুষসহ নারী ইউপি সদস্যও রয়েছেন। শুধু তাই নয় ইউপি সদস্যবৃবৃন্দ ছাড়াও ভাতা নিয়েছেন সদরের কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানও।

সরকারি ভাতার চেক গ্রহণ পরবর্তী সদর ইউওনও সমর কুমার পালের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎকালে
ইউপি সদস্যরা জানান, অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা তাদের খেয়াল খুশিমতো কাজ করছেন। ইউনিয়নে আসা কোন বরাদ্দ সম্পর্কে তাদের জানানো হয়না। এজন্য তারা ইউনিয়নের উন্নয়নে অংশগ্রহণও করতে পারেন না। শুধু তাই নয় প্রতিটি সমন্বয় সভাতেও ইউপি সদস্য হিসেবে তাদের ন্যায্য সম্মান বা জানার অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এতে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কাজ ব্যহত হবে বলে দু:খ প্রকাশ করেন তারা। কোন এক মহলের নেতৃত্বে অধিকাংশ চেয়ারম্যানদের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিকার দাবি করেন তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।
এর আগে বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বগুড়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান শফিকের নেতৃত্বে সদর ইউএনও সমর কুমার পাল কে বর্জন ঘোষণা করা হয়। ওই সময় উপজেলার দু’জন ভাইস চেয়ারম্যানসহ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। বর্জনের এই উদ্যোগে উপজেলা চেয়ারম্যান সফিকের সাথে শুরু থেকে ছিলেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাফুজুল ইসলাম রাজ।
তারা বলেছিলেন যতদিন ইউএনও সমর পাল কে বদলী না করা হবে ততদিন তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে বর্জন চলবে।
কিন্তু মঙ্গলবার ইউপি সদস্য ও কয়েকজন চেয়ারম্যানের ভাতা গ্রহণের পর উক্ত বর্জন কর্মসূচি আপনা আপনি ঘোষণা ছাড়াই প্রত্যাহার হয়ে গেলো মর্মে বলছেন সকলেই।
আবার সদর উপজেলার বিভিন্ন সূত্র ও একাধিক ইউপি সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ভোট করেছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সফিকের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা রাজ। কিন্তু হাজারো পরিকল্পনার পরেও রাজ আওয়ামী লীগের সাবেক পৌর কাউন্সিলর সার্জিল আহম্মেদ টিপুর কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হন। পরাজিত হওয়ার পর থেকেই ভোটের মাঝে মাফুজুল ইসলাম রাজ কর্তৃক ইউপি সদস্যদের উপহার হিসেবে দেয়া সম্মানি কিংবা উপহার ফেরতের জন্যে বিভিন্নভাবে তাদের চাপ দেন এবং অনেকের থেকে জোরপূর্বক টাকা ফেরতও নিয়ে নেন। যে ঘটনা বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ প্রকাশ হলে ইউপি সদস্যরা চরম অপমানিত বোধ করেন বলে তারা দু:খ প্রকাশও করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান সফিক ও আওয়ামী লীগ নেতা রাজের নেতৃত্বে তারা ইউএনও কে বর্জন ঘোষণায় একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন কারণ দিনশেষে তাদের বগুড়াতে থাকতে হবে। কিন্তু ভোটে হেরে যাওয়ার পর রাজের নেতিবাচক ব্যবহারে তারা মর্মাহত। যদিও জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের স্ত্রী মাহফুজা খানম লিপি।
জানতে চাইলে বগুড়া শাখারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহফুজার রহমান বলেন, তারা ছোট মানুষ বর্জন টর্জনের মধ্যে তারা নাই। জনগণের ভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের হয়ে কাজ করার জন্য। কিছু ব্যক্তি মানুষের চাপে এভাবে কাজ বন্ধ হয়ে থাকতে পারেনা। তাই তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করে যেতে চান।

সার্বিক প্রসঙ্গে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমর পাল বলেন, তিনি বগুড়ায় যোগদান করার পর থেকে সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের। কাজ করতে গেলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নানা প্রতিকূলতা আসবেই এতে তিনি বিচলিত নন বরং ঐক্যের মাধ্যমে গণমানুষের কল্যাণে সদা কাজ করে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।