প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কবে, জানালেন সিনিয়র সচিব

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান। রোববার (৩০ অক্টোবর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। আমিনুল ইসলাম খান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলিও ১৫ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। তিনি বলেন, দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি শিফটে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এতে, কোনো শিক্ষকের চাকরি হারানোর ভয় নেই। সিনিয়র সচিব বলেন, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামী ১ জানুয়ারিতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রোববার (৩০ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে শেষ অফিস করেন তিনি। সোমবার (৩১ অক্টোবর) থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে দায়িত্ব নেবেন আমিনুল ইসলাম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ফল আগামী মাসের (নভেম্বর) দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশিত হতে পারে। এ ছাড়া নিয়োগে পদ সংখ্যাও বাড়ানো হতে পারে। তবে কতটি পদ বাড়ছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা তিন ধাপে নেয়া হলেও চূড়ান্ত ফল একবারেই প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৬টি। এগুলোতে মোট শিক্ষক আছেন প্রায় পৌনে ৪ লাখ। এখন নতুন করে আরও ৪৫ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪০ হাজার ৮৬২ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন। এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ প্রার্থী। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর। প্রথমে ৩২ হাজারের বেশি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও করোনা মহামারির বাস্তবতায় নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরে অবসরের কারণে আরও ১০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। এ জন্য একসঙ্গে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল থেকে তিন ধাপে ৬১ জেলায় (তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত) এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।