ঝুলন্ত সেতু ভেঙে মৃত্যু বেড়ে ১৩২

ভারতের গুজরাটে ৫০০ মানুষ নিয়ে ঝুলন্ত সেতু ভেঙে পড়ল নদীতে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১৭৭ জন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে মৃতের সংখ্যা ৯০ জানিয়েছিল ভারতের সংবাদ মাধ্যমগুলো। সাঁতরে তীরে ফিরে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা। কেউবা ঝুলে আছেন ভাঙা সেতুর অংশ ধরে। একেকজনের বাঁচার তীব্র আকুতি। মর্মান্তিক এ দৃশ্য ভারতের গুজরাটের। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে মোরবি জেলার মাচ্চু নদীতে হঠাৎ একটি ঝুলন্ত সেতু ছিঁড়ে নদীতে পড়ে যান কয়েকশ মানুষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা যায়, এ সময় প্রাণে বাঁচতে নদীতে লাফিয়ে পড়েন অনেকে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন উদ্ধারকর্মীরা। মানুষের আর্তনাদ ও অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে মুহূর্তেই ভারী হয়ে ওঠে ওই এলাকা। ছোট ছোট নৌকায় করে চলছে উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনার সময় সেতুটিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ ছিলেন বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে অর্ধশতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সময় যত গড়াচ্ছে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। হাসপাতালগুলোও বাড়ছে ভিড়। এখন পর্যন্ত বহু হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। তবে, আলোস্বল্পতার কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানান উদ্ধারকর্মীরা।
দুর্ঘটনার সময় গুজরাটেই ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর পেয়ে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি ও আহত ব্যক্তিদের পরিবার প্রতি ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এ ছাড়া রাজ্যসরকারও হতাহত ব্যক্তিদের জন্য অর্থসহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে ঘটনা তদন্তে এরই মধ্যে কমিটি গঠন করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঐতিহাসিক মরবি সেতুটি প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সেতুটি মেরামতের পর গত বুধবার সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।