বিতর্কিতদের দিয়ে বেরোবি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনের অভিযোগ

বেরোবি প্রতিনিধি-বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। এতে পদ পাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি পতাকা অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলাসহ রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় নবনির্বাচিত কমিটি ঘোষণা ও পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে পতাকা অবমাননা মামলার আসামি পরিমল চন্দ্রকে উপদেষ্টা, অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন কে সভাপতি, ড. নূর আলম সিদ্দিককে সহ সভাপতি, সোহাগ আলীকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রামপ্রসাদ বর্মনকে দপ্তর সম্পাদক, ড. রশিদুল ইসলামকে শিক্ষা ও পাঠক্রম সম্পাদক, তাবিউর রহমান প্রধানকে কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মৃত মোহাম্মদ নাসিম কে নিয়ে কটুক্তি করা সিরাজুম মনিরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত কমিটিতে বিতর্কিতরা পদ পাওয়া নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা এই কমিটির ব্যাপক সমালোচনা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া বলেন,‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল না করে উল্টো ঘাতক আর দালালদের নিয়েই যেন কমিটি করা হয়েছে। কমিটি পরিচিতি সভায় আমি বারংবার আপত্তি জানিয়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি, জাতীয় পতাকা অবমাননাকারী, জাতীয় চার নেতার সন্তানকে কটুক্তিকারী, চলমান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামীদের নিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে তা জাতির কাছে লজ্জাজনক। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠনের কমিটির মতো জায়গায় যদি এরকম বিতর্কিত ব্যক্তি স্থান পায় আমরা রাজপথে থেকে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করব।

পতাকা অবমাননা মামলার বাদী সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হক বলেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বেশ কিছু সদস্য রয়েছে যারা স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা অবমাননা করেছে। জাতীয় পতাকা অবমাননা মামলার প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। এছাড়া আগের ভিসির আমলের সঙ্ঘবদ্ধ দুর্নীতির কুশিলবরাও রয়েছে কমিটিতে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী একটি সংগঠনে কীভাবে তারা আসলো তা উদ্বেগের বিষয়।’

রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা চলমান এমন ব্যক্তিকে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিতে পদ পাওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আদালত যদি কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত না করে তাহলে তাদেরকে অপরাধী বলা যাবে না। বাংলাদেশ সরকার, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ এর উপর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, তাদেরকে নির্দোষ বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং সেই রায়ের কপি আমার কাছে আছে। সুতরাং, তাদের দোষী বলা যাবে না।

সর্বশেষ সংবাদ