রেলওয়ে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনে গঠিত কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে : মনিরুজ্জামান মনির

প্রেস বিজ্ঞপ্তি-রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ডি এন মজুমদারের নেতৃত্বে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সে কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি।

আজ ১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

বিজ্ঞপ্তিতে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, গত ২২শে নভেম্বর ২০২০ রেলওয়ে ক্যাডার বহির্ভূত কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ অনুমোদিত হয়। নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ অনুমোদনের পর হইতে রেলওয়ের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি কর্মচারী বান্ধব নিয়োগ বিধিমালার দাবিতে আন্দোলন—সংগ্রাম—প্রতিবাদ এবং ২১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়কে রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির স্মারকলিপি পেশ করার ফলে ২৭শে ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালককে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটি গঠিত হওয়ার ফলে রেলওয়ের কর্মচারী ও পোষ্যদের মনে আশার সঞ্চার হয়। আমরা আশা করেছিলাম দ্রুততম সময়ে মধ্যে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধন করা হবে। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনের কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের কার্যক্রম বন্ধ রেখেই নবনিয়োগের জন্য বিভিন্ন পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রদান, পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ঘোষণা ও যোগদান অব্যাহত থাকলেও ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের কার্যক্রম হিমাগারে ফেলে রেখেছে। এমনকি গত ১৩ অক্টোবর ২০২২ আউটসোর্সিং—এ জনবল নিয়োগের জন্য ৪ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অথচ নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে আউটসোর্সিং নামের দাসত্ব প্রথা বাতিলে রেলওয়ের শ্রমিক—কর্মচারী ও পোষ্যরা আন্দোলন করে আসছে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ৭ (সাত) দিনেই নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন সম্ভব। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রী ও রেলওয়ে মহাপরিচালক স্বৈরাচারিতামূলক, সাংঘর্ষিক, বিতর্কিত রেলওয়ে কর্মচারী ও পোষ্য বান্ধবহীন নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধন না করে নতুন করে জনবল নিয়োগ করছেন। রেলওয়েতে পূর্বে জনবল ছিল ৮২,৮৯২ জন তা কমিয়ে রিফর্ম করে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমোদিত ৪৭,৬৩৭ জন জনবল কাঠামোর নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ নিয়ে সিএন্ডএজি দপ্তরের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সিএন্ডএজি’র বক্তব্য হচ্ছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের হিসাব বিভাগের জনবল নিয়োগ রেলওয়ে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ অনুযায়ী করতে পারবে না। হিসাব বিভাগ সরাসরি রেলওয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, এটি সম্পূর্ণরূপে পৃথক ও স্বতন্ত্র মর্মে সিএন্ডএজি প্রতিবাদ করে এবং এই বিধিমালা ২০২০ এর অন্তর্ভুক্তি সমীচীন নয়। অনুমোদিত জনবল এবং নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ নিয়ে সিএন্ডএজি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের দ্বন্দ্বেই প্রমাণিত হয় এই নিয়োগ বিধিমালা ও জনবলের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ ও সাংঘর্ষিক।

তিনি আরো বলেন, নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ অনুযায়ী রেলওয়ে কর্মচারীর পোষ্যরা নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মচারীর চাকরির বয়স ২০ বছর হতে হবে অথচ পূর্বে নিয়োগ বিধিমালা ৮৫ অনুযায়ী ১৫ বছর নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ পোষ্যের সংজ্ঞায় ১৫ বছরের জায়গায় ২০ বছর করায় পোষ্যদের চাকরির সুযোগকে হত্যা করা হয়েছে এবং নবনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে সুকৌশলে পোষ্যদের অধিকার বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই সকল কাজে রেলওয়ে মহাপরিচালক আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করলেও নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনে গড়িমসি করছেন।

রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি বলেন, রেলওয়ে মহাপরিচালকের গত ১০ মাসের কর্মকান্ড দেখলে মনে হয় নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের আহ্বায়ক হিসেবে রেলওয়ে কর্মচারী ও পোষ্যদের সাথে তামাশা করছেন। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে রেলওয়ে কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ হালনাগাদ/সংশোধন  কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি ব্যর্থ। ব্যর্থ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে চাকরি জীবনের সমাপ্তি ঘটাবেন।

মনিরুজ্জামান মনির আরো বলেন, ইতিপূর্বে যে সকল কর্মকর্তাগণ অবসরে চলে গেছেন তাদের মধ্যে অনেকে বিশেষ দুইটি প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থাৎ এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উচ্চপদে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে কর্মরত। এই বিশেষ দুইটি প্রতিষ্ঠান রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। এক সময়ের উচ্চপদে কর্মরত রেলওয়ে কর্মকর্তাগণ তাদের প্রভাব—প্রতিপত্তি ও মেধাকে সুকৌশলে উক্ত বিশেষ দুইটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে রেলওয়ে প্রশাসন ও কর্মকর্তাগণের উপর প্রভাব বিস্তার করে রেলওয়ের অদূরদর্শী, ধ্বংসাত্মক ও টেকসইহীন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সুক্ষভাবে নিবিড় পরিচর্যায় একের পর এক কাজ হাতিয়ে নিচ্ছেন। যেমন রেলওয়ের টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিকদের চলমান প্রক্রিয়া ও স্থায়ীকরণের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য নিয়োগ বিধিমালা ২০২০—এ আউটসোর্সিং প্রথা চালু করণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এর ফলে রেলওয়ে হারাবে দক্ষ জনবল, দেশের অপচয় হবে কোটি কোটি টাকা। অত্যন্ত সুচাতুরতার সাথে অর্থপিপাসু রেলে প্রভাব বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠান দুটি রেলমন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের শত কোটি টাকার প্রলোভনে ফেলে নিজেদের আখের গোছাতে তৎপর। সরকারের মেয়াদ সমাপ্তির মেয়াদ শেষের পথে রেলমন্ত্রী শত কোটি টাকার লোভে দিকবিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে আউটসোর্সিং চালুর পদক্ষেপ তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। স্বৈরাচারিতামূলক নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ এর মাধ্যমে শ্রমিক—কর্মচারী ও রেলপোষ্যদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত করে কর্মকর্তা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশেষ দুইটি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষায় সুদূরপ্রসারী জাল বিস্তার করে চলেছে। তারা রেলওয়েকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতির কাছে প্রমাণিত করে রেলওয়ের সিংহভাগ কর্তৃত্ব গ্রহণের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। শুধু তাই নয় রেলওয়েতে উচ্চ পদে কর্মরত থাকার সুবাদে রেলওয়ের অনেক গোপন তথ্য এই দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছে, যেভাবে বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টরা গোপন তথ্য পাচার করে একটি দেশ ও জাতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয় এরা তার ব্যতিক্রম নয়।

তিনি বলেন, শুধু তাই নয় সংস্থাপন শাখা ও জেনারেল প্রশাসন শাখা ও অন্যান্য বিভাগীয় দপ্তরের উচ্চমান সহকারীসহ সকল তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পদোন্নতি যোগ্য পদের পদোন্নতি নিয়োগ বিধিমালার অজুহাতে বন্ধ রাখা হয়েছে যা স্বৈরাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। সংস্থাপন ও জেনারেল প্রশাসন এবং বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত প্রধান সহকারী, পিআই, ওএস, এসডব্লিউআই, এএও সমপদের নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি যোগ্য (১৩—১০ম গ্রেড) সংস্থাপন, জেনারেল প্রশাসন ও প্ল্যানিং দপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা পদ মযার্দার পদে পদোন্নতি না দিয়ে শূন্য পদে বিভিন্ন সমপদের বা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদায়ন করে পদোন্নতির পথকে চিরতরে ধ্বংস করে দিচ্ছে যা চরম বিমাতাসুলভ আচরণ।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি আরো বলেন, বর্তমান রেলমন্ত্রীর সময়ে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধন হবে কি—না সন্দেহ রয়েছে। কারণ বিগত ১০ মাসেও নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধন না করে গত ৪ জুলাই ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন) কে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করে। উক্ত পুনঃগঠিত কমিটি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ ও পদোন্নতির কর্মকান্ড পরিচালনা করবেন। এতে করে এটাই নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে, নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনের জন্য কমিটি গঠন রেলওয়ের শ্রমিক—কর্মচারী—পোষ্যদের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা।

তিনি বলেন, নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনের জন্য গঠিত কমিটিসহ রেল প্রশাসন রেলকর্মচারীদের অধিকার হত্যা করে বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে খুশি করতে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনের নামে তামাশা করছে। সার্বিক কারণে আমরা মনে করি, নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধন না করে রেলওয়ের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি রেলওয়ের চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আপত্তি ও প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ না করে রেলপথ মন্ত্রী ও রেলওয়ে মহাপরিচালকের একঘেয়েমি আচরণের মধ্য দিয়ে তার নিয়োগ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যগুলো সকলের কাছে উন্মোচিত।

মনিরুজ্জামান মনির বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির পক্ষ থেকে রেলওয়ে নিয়োগ বিধিমালা ২০২০ সংশোধনে বর্তমান ব্যর্থ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে অবিলম্বে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।