অপহরণে ডিবি কর্মকর্তা, কঠোর পদপে গ্রহণ করুন

যখন খুন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে অপহরণের ঘটনা, তখন সেই পরিস্থিতি একটি দেশের জন্য কতটা উদ্বেগের বলার অপো রাখে না। একই সঙ্গে এটা বলাই বাহুল্য, এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনার সঙ্গে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য জড়িত থাকে তবে তার চেয়ে উৎকণ্ঠার আর কিছু হতে পারে না। ফলে এসব ঘটনার পরিপ্রেেিত যথাযথ পদপে গ্রহণের কোনো বিকল্প থাকা উচিত নয় বলেই আমরা মনে করি।সম্প্রতি দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে একটি ঘরে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এমনকি মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দেয়ার পরও ছাড়ছিল না অপহরণকারীরা। পরে র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার করা হয় ব্যবসায়ীকে। একই সঙ্গে আটক করা হয় জিম্মিশালার এক পাহারাদারকে। এই ঘটনায় বিস্ময়কর তথ্য হলো, অপহরণ বাণিজ্যের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তার নাম! যদিও ঘটনা জানাজানির পর ঢাকা জেলা পুলিশ ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করেছে। আমরা মনে করি, সবচেয়ে নেতিবাচক দিক হলোথ এরকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। এটা মনে রাখা দরকার, যাঁরা রক তারাই যদি ভকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তবে সে েেত্র এমন এক পরিস্থিতিকে নির্দেশ করেথ যা সার্বিক অর্থেই ভয়ঙ্কর।
আমরা মনে করি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অপহরণের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলোর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরো কেউ জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা চাই, অপহরণ নামের এই মূর্তিমান আতঙ্কজনক অধ্যায়ের সমাপ্তি হোক। যেখানে শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে, এমনকি মুক্তিপণ দেয়ার পরেও ঘটছে হত্যাকা-। অথচ এ চিত্র একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে না। একজন শিশু স্কুলে যাবে সে আর ফিরবে না, অপহৃত হবে দুর্বৃত্তদের হাতে, ব্যবসায়ীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হবে; এগুলো কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। এরপর যদি অপহরণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িয়ে পড়ে তবে তার চেয়ে ভয়ঙ্কর আর কিছু হতে পারে না। আমরা মনে করিথ এই বিষয়গুলো আমলে নিয়ে এমন কঠোর পদপে গ্রহণ করতে হবেথ যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য লোভের ফাঁদে পা না দেয় এবং মানুষের জীবন বিপন্ন না হয়। যেভাবে একের পর এক অপহরণের ঘটনা ঘটছে তা পুরো দেশের জন্যই ভীতিপ্রদ। যা জনজীবনের স্বাভাবিক ধারাকেও ব্যাহত করছে। আর মানুষের নিরাপত্তায় যাঁরা নিয়োজিত তাদেরই কোনো কোনো সদস্য যদি আতঙ্কের কারণ হয় তবে এর চেয়ে ভয়ঙ্কর আর কী বা হতে পারে! সঙ্গত কারণেই এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির অবসান জরুরি, আর তা যেকোনো মূল্যে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, কার্যকর পদপে গ্রহণের মাধ্যমে অপহরণ বন্ধ করতে হবে সরকারকেই। একই সঙ্গে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় যেন দুর্বৃত্তরা কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে তার পরিপ্রেেিতও উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না যে, ক্রমাগত অপহরণ এবং অপহরণের পর হত্যকা-ের মতো ঘৃণ্য এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে সার্বণিক শঙ্কা বিরাজমান। ফলে এই পরিস্থিতি নিরসনে সরকার প্রয়োজনে সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রদর্শন করবে এমনটি প্রত্যাশিত।