পাঁচ হাজার বিচারক চায় আইন কমিশন

জিটিবি ডেস্কঃ পাহাড়সম মামলাজট কমাতে পাঁচ হাজার বিচারক চান আইন কমিশন। আর প্রধান বিচারপতি চান তিন হাজারের অধিক বিচারক। রাজশাহী জেলা আদালত পরিদর্শনের পর সম্প্রতি এক রিপোর্টে এমন মতামত দিয়েছেন আইন কমিশন।অপরদিকে দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া সংবর্ধনায় মামলাজট কমাতে বর্তমান সংখ্যার দ্বিগুণ বিচারকের কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)। বিচারিক আদালতে বিচারকের সংখ্যা এখন প্রায় এক হাজার সাতশ’ জন। অন্যদিকে সকল জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সকল প্রকার ট্রাইব্যুনালে ১৭ লাখ ৭ হাজার ৯শ’ ৯৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে ১০ লাখ ৫ হাজার ৩শ’ ৮০টি মামলা।সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার পর ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী জেলা জজ আদালত পরিদর্শনে যান। এসব আদালতের বিভিন্ন মামলার ওপর গবেষণা করে প্রত্যেকবারই মামলাজট কমাতে সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরি করেন। এসব প্রতিবেদনে বার বারই বিচারক সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি।পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক বিচারক নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেছেন। এমনকি তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাবেক কয়েকজন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি আলোচনায়ও এ প্রস্তাব নিয়েছন।
সর্বশেষ রাজশাহী জেলা পরিদর্শনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বিরাজমান বিপুল মামলাজট সংক্রান্ত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ন্যূনতম পাঁচ হাজার বিচারক এই মুহূর্তে নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আইন কমিশন। উল্লেখ্য বর্তমানে নিম্ন আদালতে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মোকদ্দমার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ এবং নিষ্পত্তির তুলনায় নতুন মামলা দায়েরের আধিক্যের কারণে এ সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মামলাজট কমাতে আইন কমিশনের এসব সুপারিশের মধ্যে কিছু কিছু বাস্তবায়নে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দায়িত্ব নেয়ার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। জারি করেছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম কর্মদিবসে তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ৯৪ জন বিচারপতি এবং জেলা কোর্টে সতেরশ’ বিচারক রয়েছেন। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে সাড়ে তিন লাখ এবং জেলা কোর্টে প্রায় ২৫ লাখের মতো মামলা রয়েছে। এসব মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। আর তা বর্তমানের সংখ্যার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হতে হবে।