বিপুলসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক নজরদারির উদ্যোগ

জিটিবি নিউজ ডেস্ক : সরকারি-বেসরকারি প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগটি নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিনই এই নজরদারি চলবে। বিশেষ সফটওয়্যারও এজন্য তৈরি করা হচ্ছে। একই সাথে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রমও পরিদর্শনের আওতায় আনা হবে। তাছাড়া সমজাতীয় এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দেয়া হচ্ছে আরেক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের দায়িত্ব। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিবছর দেশে এক হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা সম্ভব হয় না। এ ধারাবাহিকতায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একবার পরিদর্শনের পর দ্বিতীয়বার পরিদর্শনে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লেগে যায়। কিন্তু বর্তমান নজরদারির মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবছরই পরিদর্শনের আওতায় আসবে। আর এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ডিআইএ ৯ কোটি ৯৮ লাখ ৬ হাজার টাকা বাজেটের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর আওতায় তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটে থাকবে একাডেমিক পরিদর্শন ফরম। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ফরমে শিক্ষাবর্ষের সামগ্রিক পারফরমেন্স প্রতিনিয়ত আপলোড করবে। আরশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উপস্থিতি ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে যুক্ত হবে। ফলে কাস শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশের কাসে শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য ওয়েবসাইটে দেখা যাবে। একইভাবে প্রতিদিন যুক্ত হবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান কার্যক্রম, নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য- যার মাধ্যমে সারাদেশের শিক্ষা কার্যক্রম পরিস্থিতি শিক্ষা প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরাও কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘উপযোগী’ ওয়েবসাইট তৈরির নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটের প্রতিদিনের তথ্যও ডিআইএর এই ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে।
সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল রয়েছে ১৬ হাজার ১০৯টি, কলেজ ২ হাজার ৩৬৩টি, মাদ্রাসা ৭ হাজার ৫৯২টি এবং কারিগরি বিদ্যালয় ১ হাজার ৬১৩টি। সব মিলিয়ে দেশে মোট ২৭ হাজার ৬৭৭টি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল ৩২৭টি, কলেজ ২৯৩টি, মাদ্রাসা ৩টি এবং ২৪৮টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে নজরদারির জন্য ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটে যুক্ত করার জন্য পরিদর্শন ফরমের একটি ফরমেট তৈরি করা হয়েছে। আর সংশ্লিষ্টরা চলতি বছরই এই কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে শিক্ষায় অগ্রসর ও অনগ্রসর দুটি জেলার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আর পরিকল্পনা অনুসারে নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসা প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে এবং সবধরনের কলেজ, আলিম ও দাখিল মাদ্রাসা ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাঁদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরিদর্শনের পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ডিআইএর ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরমে আপলোড করবেন। তাঁদের প্রতিবেদন মূল্যায়ন এবং ত্রুটি ও অনিয়ম চিহ্নিত করে ডিআইএ কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।সারাদেশের সরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এমপিওভুক্ত (শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের সরকারি অংশপ্রাপ্ত) বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-কারিগরি প্রতিষ্ঠানকেই এই ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সূত্র আরো জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল নজরদারির কার্যক্রমের মূল ফোকাল পয়েন্ট হচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি রেটিং তৈরি করা। একইভাবে এ উদ্যোগের ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষকদের পারফরমেন্সের মূল্যায়নও পাওয়া যাবে। আর সে ভিত্তিতে ভালো শিক্ষকদের পুরস্কার ও দুর্বল-ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের তিরস্কার করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তাছাড়া এই কর্মসূচির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে আরেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের দায়িত্ব অর্পণ। এর নামকরণ করা হচ্ছে পেয়ার ইন্সপেকশন। উপজেলাভিত্তিক সমজাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা চক্রাকারে (এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান আরেক প্রতিষ্ঠান) পরিদর্শন করবেন। ডিআইএর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।এ প্রসঙ্গে ডিআইএর পরিচালক অধ্যাপক মফিজউদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের ফলে দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। একই সাথে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম প্রতিবছর পরিদর্শনের আওতায় আসবে। তাতে শিক্ষণ ও শিখন পদ্ধতির উন্নয়ন হবে। তাছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর যুগোপযোগী শিক্ষার সঙ্গেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। আর ডিজিটাল কার্যক্রমের আওতায় আসবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সর্বোপরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।