নৌ-সড়ক-রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্ট ঃ আগামি একবছরের (২০১৫-২০১৬) জন্য নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি গঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় ঐক্য সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুর রহীমকে সভাপতি ও পরিবহন বিষয়ক গবেষক আশীষ কুমার দে-কে সাধারণ সম্পাদক করে মোট ৩১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদ কমিটি গঠন করা হয়।উপদেষ্টা পরিষদের নতুন কমিটিতে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খান, রুহিন হোসেন প্রিন্স, পংকজ ভট্টাচার্য ও গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম সহ মোট ২১জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও সংগঠনটিতে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন জাতীয় পরিষদ কমিটিও গঠন করা হয়।সারা দেশে পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ীপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নদ-নদী, হাওর-বাওড়সহ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, নিরাপদ, আরামদায়ক, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব নৌ ও রেলযোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপসহ রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থার অনিয়ম- দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদের লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন কমিটি জনস্বার্থে আগামি বছরের (জুলাই ২০১৫- জুন ২০১৬) জন্য আটদফা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে।নতুন কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রহীম অনুষ্ঠানে সংগঠনের আটদফা কর্মসূচি তুলে ধরেন। আটদফার মধ্যে রয়েছে- গণসচেতনতা সৃষ্টি, অবৈধ ত্রুটিপূর্ণ নৌ ও সড়কযান, লাইসেন্সবিহীন, ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকবিরোধী আন্দোলন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে চাপ প্রয়োগ, যানজট নিরসনে পরামর্শমূলক কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি যানবাহনের ইজারা প্রথা বিলুপ্তি, নদ-নদী হাওর-বাওড়সহ প্রাকৃতিক জলাভূমি রক্ষা, দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং সুন্দরবন রক্ষায় মংলা ঘষিয়াখালী নৌ-পথ সচলকরণে কর্মসূচি গ্রহণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মনজুরুল আহসান খান বলেন, নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি কোনো রাজনীতিক সংগঠন নয়। সংগঠনটি জ্ঞানভিত্তিক গবেষণা করে সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি জনগণকেসচেতন করে তোলতিনি নতুন কমিটির সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নৌ, সড়ক, রেলপথ, আকাশপথ যেটিই হোক না কেন নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে আন্দোলনের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে হবে। জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তাহলেই নাগরিক সমস্যার সমাধান সম্ভব। আর সে লক্ষ্য সামনে রেখে আপনাদের কাজ করতে আহবান জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সাবেক আহ্বায়ক আশীষ কুমার দে-র সভাপতিত্বে নতুন কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গণতন্ত্রী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুর রহমান সেলিম, ব্যারিস্টার সাদিয়া রহমান, কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি তুষার রেহমানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।