রমজান এবং ঈদে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদ-উল-ফিতর নিরাপদে নির্বিঘ্নে উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক এর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে পবিত্র রমজান ও ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পবিত্র রমজান ও ঈদ উদ্যাপন নির্বিঘ্ন করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশ প্রধান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ প্রদর্শন করে উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে হবে। আইজিপি বলেন, ফরমালিন ও রাসায়নিক উপাদান মিশ্রিত ফল ও খাদ্যদ্রব্য বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। তিনি দায়িত্বশীলতার সাথে এ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে জনগণের সাথে পুলিশের সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে অপরাধ দমনে কাজ করার জন্য তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

সভায় পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল নাঈম আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) জনাব মোঃ মোখলেসুর রহমান, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি জনাব শেখ হিমায়েত হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর ফাতেমা বেগম, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া, সকল পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ, হাইওয়ে, রেলওয়ে ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশসহ অন্যান্য ইউনিটের ডিআইজিবৃন্দ, পুলিশ সুপারগণ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভার শুরুতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (অপারেশন) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পবিত্র রমজান ও ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে গৃহীতব্য সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। সভায় পবিত্র রমজান মাসের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা, ট্রেন, বাস ও লঞ্চের নিরাপদ চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা, ঈদ জামায়াতের নিরাপত্তা এবং জাল টাকার অপব্যবহার রোধ ইত্যাদি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়।

সভায় ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রোধে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। রেলওয়ে স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে পকেটমার ও অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় শহরে বিপণী বিতান ও শপিংমল যথাসম্ভব সিসিটিভির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জনসাধারণের কেনা-কাটার সুবিধার্থে এবং তারাবির নামাজের সময় অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে গভীর রাত পর্যাপ্ত নৈশ টহলের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যাংক ও অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠানে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশ জনসাধারণকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

মহাসড়কে সুষ্ঠুভাবে যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পুলিশ কোন যানবাহন তল্লাশি করবে না। মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধ এবং যানজট নিরসনে হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশ বিশেষ তৎপর থেকে দায়িত্ব পালন করবে।

প্রিয়জনের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য রেলওয়ে স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে টিকেট কালোবাজারী প্রতিরোধে পুলিশ, মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এবং কমিউনিটি পুলিশের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ঈদ জামাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রমজানের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে ৮ জুলাই থেকে ঈদ-উল-ফিতরের তিন দিন পর্যন্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং প্রতিটি জেলা/ইউনিটে কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।