বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে ডিসি, এসপির সহযোগিতা চেয়ে চিঠি

ঢাকা: রোজায় ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে, চাঁদাবাজি বন্ধে এবং পরিবহন ব্যবস্থা নির্বিঘœ করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সহযোগিতা চেয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পরিচালক মাহবুব আহমেদ সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের চিঠি দিয়ে এসব বিষয়ে সহযেগিতা চান।

প্রতিবছর রোজায় পেঁয়াজ, আলু, বেগুন, ডাল, কাঁচা মরিচ, লেবু, ভোজ্যতেল, চিনি, মুড়ি, দুধ, খেঁজুর এবং বিভিন্ন ধরনের মসলা ও ফলের চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালক তার চিঠিতে বলেছেন, “রমজান মাস আসন্ন। সাধারণত রমজানের শুরুতে কৃষিপণ্যসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কৃষিপণ্যের বাজার দর ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সম্ভব সকল ধরনের প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।”

চিঠিতে বলা হয়, কৃষিপণ্যসহ সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের বাজার দর ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে পণ্য চলাচল নির্বিঘœ ও চাঁদা আদায় রোধে পদক্ষেপ নেওয়া ‘প্রয়োজন’।

“পণ্যের অবাধ চলাচল বিঘিœত ও অপ্রদর্শিত ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পণ্যের পরিবহন ব্যয় আশাতীতভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলশ্রুতিতে ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের মূল্য মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।”

পণ্য পরিবহন নির্বঘœ করতে এবং ও চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি আলাদা চিঠিতে জেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স কমিটির কার্যক্রম ও বাজার পর্যবেক্ষণ জোরদার করার সুপারিশ করেছে বিপণন অধিদপ্তর।

তবে চাঁদ দেখা গেলে ১৮ জুন থেকে বাংলাদেশে রোজা শুরু হতে পারে।

ঢাকায় বেড়েছে মাছের বাজার

রাজধানীর বাজারগুলোতে গত ১৫ দিনে সব ধরনের মাছের দাম কেজি প্রতি ১৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

তবে বিক্রেতারা বলছেন, গত কিছুদিন সারা দেশে তাপদাহে বিভিন্ন এলাকায় ঘের ও পুকুরের মাছ মারা গেছে। আবার বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় বরফ কলগুলো ঠিকমত চালু না থাকায় মাছ সংরক্ষণ করা যায়নি। এ কারণেই দাম বেড়েছে।

অবশ্য ক্রেতাদের কারও কারও সন্দেহ, গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় রোজা সামনে রেখে মাছের দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা।

যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়ৎদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “এখন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। সারা দেশেই তাপদাহে বিল, ঘের, পুকুর শুকিয়ে গেছে। নদীর মাছও কম। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে। তবে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে, দাম কমে যাবে।”

ঢাকার কাঁচাবাজারে বিভিন্ন সবজির দামে খুব একটা হেরফের না হলেও বেগুনের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি দরে বেগুন মিললেও শুক্রবার কিনতে হয়েছে ৫০ টাকায়। লম্বা বেগুনের দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরেকটু বেশি।

পেঁয়াজের দর বেড়েছে চট্টগ্রামে

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সবজির দাম স্থিতিশীল থাকলেও পেঁয়াজের দাম বাড়তি।

গত সপ্তাহে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম যেখানে ২৮ থেকে ৩২ টাকা কেজি ছিল, সেখানে শুক্রবার নগরীর বৃহত্তম কাঁচা বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারে তা বিক্রি হতে দেখা গেছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায়।

তবে দাম কেন বেড়েছে, তার কোনো যুক্তি দেখাতে পারেননি খুচরা বিক্রেতারা।

পেঁয়াজের দাম বাড়লেও রসুন আগের মতোই ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টানা বৃষ্টি হলে অন্যান্য সবজির দামও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা আভাস দিয়েছেন বিক্রেতারা।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের সবজি বিক্রেতা ফারুখ হোসেন বলেন, সব রকম সবজি গত সপ্তাহের মতোই ২০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার প্রতি কেজি বেগুন ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি, ঢেঁড়শ ও টমেটো ৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ও শসা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে এ বাজারে।

“গত দুই দিনের মতো বৃষ্টি আরও কয়েকদিন হলে অন্য জেলা থেকে সবজির আমদানি কমে যাবে। তখন দাম বাড়তে পারে”, বলেন ফারুখ।

চট্টগ্রামে মাছের বাজারেও মোটামুটি স্থিতিশীল। মাঝারি আকারের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। নাইলোটিকা মাছ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে।

শুক্রবার চট্টগ্রামের বাজারে ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। আর গরুর মাংসের কেজি ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা।

রিয়াজউদ্দিন বাজারে বাজার করতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা সালাম মোহাম্মদ বলেন, “এখনো বাজারে স্বস্তি আছে। রোজা শুরু হলেও যাতে এ অবস্থা থাকে সে জন্য প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।”