ট্রাফিক পুলিশ বাড়াচ্ছে যানজট!

ডেমরায় অধিবাসীদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক সৃষ্ট নিত্যদিনের যানজট। সমস্যাটি দীর্ঘদিনের হলেও এই অবস্থা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। প্রলম্ভিত হচ্ছে জনদুর্ভোগ।

এদিকে সরকার দলীয়দের রাস্তার পাশে অবৈধ দখলের জন্য রাস্তা সংকুচিত, ফুটপাত দখল, রাস্তার উপর বাজার স্থাপন ও যানবাহন স্টেশন এবং অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাসহ নানা কারণে ডেমরায় যানজটের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। ছুটির দিন এবং গভীর রাতেও এই দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।

দেখা গেছে, ডেমরা সুলতানা কামাল ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী পৌঁছাতে সময় লাগার কথা ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেখানে এখন রাস্তার দু’পাশ অবৈধ দখলে থাকায় এবং স্টাফ কোয়ার্টার বাসস্ট্যা- এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণহীন চাঁদাবাজির কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। এতে এই রাস্তার যাত্রীদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ডেমরার চৌরাস্তায় কোন ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন না করায় ৩ দিক থেকে বেপরোয়া গাড়ি চলাচল করার কারণে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অথচ চৌরাস্তা ও স্টাফ কোয়ার্টার বাসস্ট্যা- এলাকার মাঝামাঝি চলে ট্রাফিক পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। আরও দেখা যায়, গাড়ির গতিতে হেঁটে চলে মানুষ। যানজটের কারণে করিম জুট মিল দেইল্লা-বাশেরপুল, কোনাপাড়া থেকে ডেমরা ব্রিজ পর্যন্ত অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে হেঁটে যেতে হয় যাত্রীদের। এমনকি সুলতানা কামাল ব্রিজের দু’পাড়েই থাকে তীব্র যানজট। পাশাপাশি চিটাগাং রোড থেকে রানীমহল হয়ে সারুলিয়া বাজার পর্যন্ত লেগে থাকে যানজট। অথচ ৫ মিনিটের রাস্তা সময় লাগে আধা ঘণ্টা। অনেক সময় কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানেই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। অতিষ্ঠ ও হাফিয়ে উঠেছে এই সড়কের যাত্রীসহ চালকরা।

এদিকে আবার পাবলিক বাসের সংকটও রয়েছে ডেমরায়। তবে কমতি নেই যাত্রীবাহী লেগুনা, ব্যাটারি চালিত সিএনজি-রিকশা, স্কুটার, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান আর মালবাহী গাড়ির। এছাড়াও ডেমরার বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অনুমোদনবিহীন শত শত যানবাহন চলাচল করছে। আইনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ট্রাফিক পুলিশকে চাঁদা দিয়ে ডেমরায় প্রধান সড়কে দিনের বেলায় “োরসে ট্রাক চলাচলসহ এসব অনুমোদনবিহীন যানবাহন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন বৈধ অন্যান্য যানবাহনের চালকেরা। এতে সহজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে যানজট।

কোনো কোনো জায়গায় দীর্ঘ সময় যানজট থেকে রেহাই পেতে অনেকেই উল্টোপথে গাড়ি চালিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এতে যানজট আরও বেড়ে যায়। গতকাল ডেমরার স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড গুলোতে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ডেমরায় যানজটের একটি বড় কারণ হল এখানে নির্ধারিত কোনো বাস টার্মিনাল রনই।

সূত্রমতে, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী মহাসড়কের মাঝপথের এই বাসস্ট্যান্ডগুলোর আশপাশে ঘিরে রয়েছে ভারী শিল্প কারখানা, ব্যাংক, বীমা, ছোট-বড় শপিং মল ও কমপ্লেক্স, ক্লিনিক-হাসপাতালসহ ছোট-বড়-মাঝারি বিভিন্ন রকমারি প্রতিষ্ঠান। যে কারণে মহাসড়ক ও ছোট-বড় রাস্তা দিয়ে চলছে শত শত যানবাহন এবং দীর্ঘ যাটজটের সৃষ্টি করছে।

এদিকে একাধিক ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী জানান, ট্রাফিক পুলিশ রাস্তায় এসব যানবাহন আটক করে চাঁদা আদায় করে বলে যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, বাস-ট্রাকসহ এসব যানবাহন এলোমেলো ভাবে স্ট্যান্ড ও যেখানে সেখানে পার্কিংয়ের কারণে দিন দিন বাসস্ট্যা-ের পরিবেশ বিষিয়ে উঠছে। যে কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

অথচ যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিকের উর্ধ্বতনরা বলেছেন, যানজট হবে কেন? ডেমরায় অতিরিক্ত ট্রাফিকের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে যদি তারা চাঁদাবাজি করে যানজটের সৃষ্টি করে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে কোন মূল্যে ডেমরাকে যানজটমুক্ত রাখতে হবে।