পঞ্চগড় ভাটাপুকুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শতভাগ পাশ

পঞ্চগড় প্রতনিধি: পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নে ভাটাপুকুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবছর শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকেরা বেশ আনন্দিত। জানা গেছে, এবছর এসএসসি পরিক্ষায় মোট ১৬ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষক, কাসরুম, পড়ার ব্রেঞ্জ, বিদ্যুৎসহ নানারকম সংকটের পরও এসএসসি পরিক্ষায় ছাত্রীদের শতভাগ উত্তীর্ন হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ অভিভাবকেরা বিদ্যালয়টিকে ঘিরে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে ভাটাপুকুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯৯৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি ও ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত হয় বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়ে সরকার কর্তৃক তেমন কোনো অনুদান পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীরা জানায়, একটি ব্রেঞ্জে ৪-৫ জনকে গাদাগাদি করে বসে কাস করতে হয় এবং বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচ- গরমে পড়ালেখায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে আইসিটি সামগ্রী পাওয়া গেলেও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ছাড়াও বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় মেয়েদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরিতে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। শনিবার দুপুরে সরজমিনে ভাটাপুকুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাসরুমে পরিক্ষা দিতে দেখা যায়। এ সময় ইসলাম শিক্ষা শিক্ষক মাও. মোহাম্মদ আলী জানান, কিছুদিন পূর্বে ভ’মিকম্পে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাসরুমে ফাটল ধরেছে। বাড়তি কাসরুম না থাকায় ঝুঁকি সত্যেও পরিক্ষা নিতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ে বায়োলজি ও কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ এবং সরকারের সহযোগিতা পেলে আরোও ভালো ফলাফল আসবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি। বিএসসি শিক্ষক আনছারুল হক জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৫০ জন ছাত্রী রয়েছে। কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে অত্র এলাকার অভিভাবকেরা তাদের মেয়েদের অন্য বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণীকক্ষ, বাউন্ডারী, বিদ্যুৎসহ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেড়ে যাবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয়দের দাবি সরকারের সু-দৃষ্টি পেলে ভাটাপুকুরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের মেয়েরা নারী শিক্ষায় দৃষ্টান্তস্থাপন করবে।