শেরপুরের গোলাম রব্বানীকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ আদালতের

কোর্ট রিপোর্টার,বগুড়া ঃ ইউনির্ভাসিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজী‘র অবৈধ দাবিদার বগুড়ার শেরপুরের গোলাম রব্বানীকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের শেরপুর-০৪ এর বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন এই নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলা সূত্রে জানায়ায় বগুড়ার শেরপুরের শ্রিরাম পুরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজী নামে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ভর্তি অফিস স্থাপন করে। সেই সঙ্গে আসামী গোলাম রব্বানী নিজেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক ও ভিসি হিসেবে পরিচয় দেয়। স্থানীয় পত্রিকায় ছাত্র -ছাত্রী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট পাওয়ার নিশ্চতা দেয়।এ রকম প্রচারনায় প্রলুব্ধ হয়ে ভর্তিচ্ছুক বাদী শাফি পারভেজ উক্ত ক্যাম্পাসে গিয়ে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে। এ সময় আসামী নগদ ভর্তি বাবদ ৫৫,০০০ টাকা গ্রহন করে এবং পরে রসিদ সরবরাহ করা হবে মর্মে জানান। পরবর্তীতে বাদী পত্রিকায় ভর্তি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানতে পারেন পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজী রংপুর রোড গোকুল বগুড়ায় নিজস্ব ক্যাম্পাস পুনরায় যাত্রা শুরু করেছে। এ সময় বাদী শাফি পারভেজ এই ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখতে পান একাডেমীক ভবন সহ পাঠদানের সকল সুযোগ সুবিধা রয়েছে। বাদীর সন্দেহ হয় শেরপুরে বিশ্ববিদ্যালয় এর ভর্তি অফিসের দাবিদার গোলাম রব্বানীর দ্বারা তিনি প্রতারিত হয়েছে।
আসামীর নিকট হতে উক্ত ভর্তির টাকা ফেরত চাহিলে আসামী তা প্রদানে অস্বীকার করেন। বাদী বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-৪ এ ১০২সি/১৫ (সদর) মামলা দায়ের করিলে আদালত আসামীর প্রতি সমন জারীর আদেশ প্রদান করেন। আসামী গত ১৪/০৬/২০১৫ইং তারিখে আদালতে হাজির হইয়া জামিন প্রার্থনা করিলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামী গোলাম রব্বানীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। আসামী গোলাম রব্বানীর পিতার নাম হযরত আলী আকন্দ,বর্তমান ঠিকানা বগুড়ার শেরপুরের শ্রীরামপুর।
উল্লেখ্য আসামী ইতিপূর্বে সারা দেশে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ৩১টি অবৈধ ক্যাম্পাস স্থাপন করে প্রচুর অর্থ লোপাট করে। অবৈধ ভাবে এসব ক্যাম্পাস পরিচালনা করে সনদ বাণিজ্য করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিা মন্ত্রণালয় কর্তৃক আসামীকে কালো তালিকাভূক্ত করে যার স্মারক নং৩৭,০০,০০০০,০৭৮,৩১,০০৪,১৪-৮৫(২)/৩,তারিখ০৪/০২/২০১৫ইং পত্র প্রেরণ করেন। এ ছাড়া আসামী হযরত শাহ্ সুলতান নামক বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন।সর্বশেষ আসামী পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজী‘র ১৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রকৃত ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান এ এইচ এম শাহজাহান তরু কর্তৃক মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত ৩২৬৩/১৩ রীট মামলার রায়কে নিজের রায় হিসেবে দেখিয়ে অবৈধভাবে ভর্তি অফিস স্থাপন করেন। ছাত্র/ছাত্রী ভর্তির নামে অর্থ গ্রহণ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণ, জেলায় জেলায় ভর্তি ক্যাম্পাস খোলার নামে অর্থ গ্রহণ করে আসছে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে বিভিন্ন জেলাতে ক্যাম্পাস স্থাপনের নাম করে অর্থ গ্রহণ করায় উক্ত জেলা গুলোতেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বাদী পে মামলাটি শুনানী করেন এ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান, এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান, এ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম চৌধুরীসহ আরও অনেকে। অপরদিকে আসামী পে মামলাটি শুনানী করেন এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন, এ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী তালুকদার প্রমূখ।