আবারও বাজেট সংশোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট আবারও সংশোধন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার মধ্যে হঠাৎ করেই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছ থেকে অর্থমন্ত্রী ফ্লোর নেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাজেট বক্তৃতার ৭৩ ও ৭৪ পৃষ্ঠায় কতিপয় পণ্যে উৎসে করের পরিধি বৃদ্ধি ও কর হার বর্ধিত করার প্রস্তাব আছে। আসলে এটা ভুল হয়েছে। পণ্যগুলো হলো: শুকনা মরিচ, তেলবীজ, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্য তেল, চাল, গম ও চালের খুদ। এসব পণ্যে উৎসে কর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এখানে উৎসে শব্দটি ভুল হয়েছে। এতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। পণ্যের দাম বাড়ছে। আমি উৎসে কর শব্দটি বাদ দেওয়ার অনুরোধ করছি। এসব পণ্যের উৎসে কর বাড়ানো হবে না।’
এর আগে ৮ জুন চিনি আমদানির ওপর আমদানি শুল্ক আরোপের ‘ভুল’ প্রস্তাব সংশোধন করেন অর্থমন্ত্রী।
ওমরাহ হজ বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ: পয়েন্ট অব অর্ডারে স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজী অভিযোগ করেন, কিছু এজেন্সির অবহেলার কারণে বাংলাদেশের ওমরাহ ভিসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধর্ম মন্ত্রণালয় সেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব রয়েছে। ওমরাহ ভিসা বন্ধের কারণ ও করণীয় বিষয়ে সংসদে ধর্ম ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন তিনি।
রুস্তম আলী ফরাজী প্রশ্ন রেখে বলেন, কী এমন ঘটনা ঘটল যে ওমরাহ ভিসা বন্ধ করা হলো? পৃথিবীর সব মুসলিম দেশের লোক ওমরাহ করতে পারবেন, অথচ বাংলাদেশের মুসলমানরা পারবেন না। এটা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা।
বাজেট আলোচনা: প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে সাধারণ আলোচনায় জাতীয় পার্টির সাংসদ এ কে এম মাঈদুল ইসলাম ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরেই তিস্তা চুক্তি হবে, কিন্তু তা হয়নি।’ বাংলাদেশের পানি সমস্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিস্তা ও পদ্মায় পানি পেলেও আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ ফারাক্কা, তিস্তা ও অন্যান্য নদী দিয়ে মাত্র ৩৩ ভাগ পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে; যা নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি। কিন্তু চীন থেকে উৎপত্তি হয়ে যে ব্রহ্মপুত্র নদের মাধ্যমে বাকি ৬৭ ভাগ পানি আসে, তা নিয়ে আমরা কোনো চিন্তাভাবনা করছি না। এমনকি ব্রহ্মপুত্র নদের ব্যাপারে কোনো আলোচনাই হলো না।’
বর্তমানে সংসদের অধিবেশন কক্ষটি ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ওপরের দিকে আঙুল তুলে মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেখানে বসে আছি, আমাদের মাথার ওপর কেনোপি (শামিয়ানা) যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।’ এ সময় সাংসদদের ওপরের দিকে তাকাতে দেখা গেছে।
বাজেট আলোচনায় আরও অংশ নেন সুবিদ আলী ভূঁইয়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, আবু জাহির, মো. ইউনুস আলী সরকার, গোলাম মোস্তফা, মোস্তফা লুৎফুল্লাহ প্রমুখ।