সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেবে প্রেস কাউন্সিল!

সাংবাদিকদের নিবন্ধন করে পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা ভাবছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। তবে সাংবাদিক নেতা ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা এই উদ্যোগের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
গণমাধ্যমের পরিচয়পত্র এবং তথ্য অধিদপ্তরের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড থাকার পর প্রেস কাউন্সিলের পরিচয়পত্র কতটা জরুরি এবং এর প্রয়োজনীয়তা কতটা তা নিয়ে গতকালই সংবাদকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রেস কাউন্সিল সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তারা এ ধরনের চিন্তাভাবনা করছে। এখন তারা এ বিষয়ে এগোতে চায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি যখন ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন, তখন সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন দাবি উঠছে। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই এমন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কিছু নয়। এ বিষয়ে নবগঠিত কাউন্সিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘আমার প্রস্তাব হলো, জাতীয় পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ‘এ’ শ্রেণিতে, জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের ‘বি’ শ্রেণিতে এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সাংবাদিকদের ‘সি’ শ্রেণিভুক্ত করে এই তালিকা করা যেতে পারে।
এটি করা গেলে স্কুল পাসসহ যে কেউ সাংবাদিক হতে পারবেন না। এ ছাড়া কোথাও সমস্যা হলে ওয়েবসাইট দেখিয়ে বলতে পারবেন তিনি সাংবাদিক।’
এর আগে গতকাল সোমবার দিনব্যাপী সাংবাদিকতা বিষয়ে এক কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান তাঁর এই ভাবনার কথা জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য গোলাম রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে অনলাইনসহ অনেক গণমাধ্যম হয়েছে। এ জন্য শৃঙ্খলা আনতে এটা করা যেতে পারে, তবে তা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এটা করতে হলে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই তা করতে হবে।
তবে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিষয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানেন না। প্রেস কাউন্সিল সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত এটি প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মত। নিবন্ধন করে পরিচয়পত্র পাওয়ার বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি, সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গেও আলোচনা হয়নি। প্রেস কাউন্সিল আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তাঁরা এ নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিএফইউজের আরেক অংশের সভাপতি শওকত মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এ ধরনের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এটা অগ্রহণযোগ্য। এর মধ্যে আবার সাংবাদিকদের ক্যাটাগরি করা হবে আরও খারাপ। তা ছাড়া এটা প্রেস কাউন্সিলের কাজও নয়।’
আসছে সম্প্রচার কমিশন: কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আগামী শীত মৌসুমে সম্প্রচার আইন ও কমিশন আসছে। যুক্তরাজ্যের আদলে এটি করা হচ্ছে।’
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের কারিগর শেখ হাসিনা ও আগুন-সন্ত্রাসী খালেদা জিয়াকে এক পাল্লায় মাপছেন—এটা তো অনৈতিক কাজ। নিরপেক্ষতার ভান করে মিথ্যাচারকে সামনে আনবেন না।’
রাজধানীর তোপখানা রোডে প্রেস কাউন্সিলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, প্রেস কাউন্সিলের সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক আকরাম হোসেন খান, প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নেন।