বাগাতিপাড়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে তিন সরকারি দপ্তরের কাজ

জিটিবি নিউজ ডেস্ক : নাটোরের বাগাতিপাড়ার উপজেলা অডিটোরিয়ামটি পরিত্যক্ত হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগেই। প্রায় ১৯ বছর পূর্বে সর্বশেষ অনুষ্ঠানের পর অডিটোরিয়ামের সব কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষনার কোনো তথ্য প্রকৌশলীর দপ্তরে নেই। তবে অডিটোরিয়ামের সকল কাজ বন্ধ হলেও দ্বিতল ওই ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে তিনটি সরকারি দপ্তরের কাজ। রীতিমতো দপ্তরগুলো থেকে মাসিক ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এর নিচতলায় মাধ্যমিক শিক্ষা ও খাদ্য দপ্তর এবং উপরের তলায় রয়েছে মৎস্য দপ্তর। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এদিকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের দাবি দ্রুত অডিটোরিয়ামটি পুনঃনির্মান করার। দপ্তর তিনটি সূত্রে জানা যায়, জায়গার সংকুলান না হওয়ায় দপ্তর তিনটিকে পরিত্যক্ত অডিটোরিয়ামে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রায় ১৯ বছর ধরে এভাবেই চলছে এসব বিভাগের কাজ। স্বল্প জায়গায় আসবাবপত্রও তেমনভাবে রাখা যায়না। ফলে অনেকটা অগোছালোভাবেই রাখতে হয় আসবাবপত্র। তাছাড়াও এর ভেতরের অংশে রাখায় বিন্যামুল্যে বিতরণের বই উই পোকা খেয়ে নষ্ট করছে। অন্যদিকে ভুমিকম্পের সময় আতঙ্কে কাটাতে হয় এসব দপ্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, পাশে একটি ভবন নির্মানের কাজ হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অন্য দপ্তরগুলির কোনো কুল কিনারা হয়নি। ফলে ওই পরিত্যক্ত ভবনেই অফিসের কার্যক্রম চালাতে হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহাদ আলী জানান, শিক্ষা অফিসের কোনো গোডাউন না থাকায় এ দপ্তরের বইগুলো রাখা হয়েছে অডিটোরিয়ামের ভেতরে এবং দোতলার উপরে দর্শক বসার সীটের ওপর। এতে কিছুটা বই উই পোকাতে খেয়ে নষ্ট হচ্ছে। খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন থেকে ব্যাবহার অনুপযোগী অডিটোরিয়াম ভবনের কক্ষ খাদ্য দপ্তরের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অডিটোরিয়ামের এ ভবনটি বর্তমানে মাসিক তিনশ টাকা হারে বরাদ্দ নিয়ে এ দপ্তরের কাজ চালানো হচ্ছে। মৎস্য সম্প্রসারন কর্মকর্তা মিজবাহুল নুর আনোয়ার কবীর জানান, কিছুদিন পূর্বে ছাদের হুক খুলে সিলিং ফ্যান চলতি অবস্থায় পড়ে গিয়েছিল, তবে কোনো ব্যক্তি আহত হননি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ছাদের কিছু অংশ এবং দেয়াল সংস্কার করা হয়েছিল। তবে তিনি অফিসের কার্যক্রম চালানোর জন্য স্থায়ী নিরাপদ ব্যবস্থা আশা করেন।অফিসার’স কাবের সংগীত পরিচালক আরশাদ মাহমুদ জানান, ১৯৮৫ সালে অডিটোরিয়াটি নির্মাণ করা হয়। সেসময় অনেক জাতীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেখানে করা হয়েছে। পরে ১৯৯৭ সালের ১৭ এপ্রিল সব শেষ তিনি সেখানে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলেন এবং সেই অনুষ্ঠানের পর ঝুকিপুর্ন হওয়ায় অডিটোরিয়ামটি আর ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে এর গ্রিন রুম ও অফিস কক্ষতে সরকারি দপ্তরের কাজ চলছে। তবে তিনি দ্রুত অডিটোরিয়ামটি ভেঙে নতুনভাবে পুনঃ নির্মানের দাবি জানান। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন বলেন, আধুনিক উপজেলা পরিষদ ভবন পেলে অডিটোরিয়াম এবং বই রাখার জন্য গোডাউন সমস্যার সমাধান হবে।