বাঘায় বিলুপ্তির পথে দেশীয় খেজুর

রাজশাহী সংবাদদাতা : এখন চলছে মধুমাস। বাজারে আম, জাম, লিচুসহ রসালো ফলে ভর্তি। দেশি খেজুরের খুব বেশি কদর না থাকলেও এ ফল নানা রকম পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। পুষ্টিবিদদের মতে, দেশি খেজুরের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম, সালফার, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ফলিক অ্যাসিড, আমিষ ও শর্করা। এ ছাড়া এ খেজুর খেতেও সুস্বাদু। তবে বিক্রেতারা গাছে খেজুর পাকা পর্যন্ত অপেক্ষা করে না। কাঁচা অবস্থায় গাছ থেকে পেড়ে গরম পানিতে লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে বাজারে বিক্রি করছে। এতে অনেকটাই স্বাদহীন হয়ে পড়ে খেজুর। এক সময় পথে-প্রান্তরে ছিল সারি সারি খেজুর গাছ। এ মৌসুমে যে দিকে চোখ যেত দেখা যেত গাছে ঝুলে থাকা খেজুরের থোকা। জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে আষাঢ়ের প্রথম ভাগে গাছ থেকে খেজুরের ছড়ি সংগ্রহের উৎসবে মেতে উঠে গ্রামের কিশোর-কিশোরীরা। এখন দিনদিন গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় খেজুর।খেজুর গাছে শীতের প্রথম ভাগে ফুল ধরে। পরে ফুল থেকে পরিপক্ব হতে সময় লাগে প্রায় চার মাস। আষাঢ়ের প্রথম ভাগে পাকতে শুরু করে। সবুজ রঙ থেকে গাঢ় হলদে হলে পরিপক্ব হয়। থোকা কেটে পানিতে তিন থেকে চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে খেজুর পেকে যায়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর উপাদান রয়েছে। খেজুর হৃদরোগীদের জন্য বেশ উপকারী। খেজুর রক্ত উৎপাদনে সহায়তা ও হজমবর্ধক, পাকস্থলি ও যকৃতের শক্তি বাড়ায়। খেজুরের বীজ রোগ নিরাময়, খেজুর ফুলের পরাগরেণু পুরুষের বন্ধ্যত্ব দূর করে শুক্রাণু বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের মতে, আবহাওয়া ও জলবায়ুগত কারণে দিনদিন খেজুর গাছ মরে যাচ্ছে। এ ছাড়া ইটভাটায় খেজুর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে। তাই খেজুর গাছ রক্ষা করতে বনবিভাগ ও সরকারের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চকরাজাপুর চরের কৃষক রমযান শেখ জানান, বছর দশেক আগে দুই শতাধিক খেজুর গাছ ছিল। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিবছর গাছ মরে যাওয়ায় এখন মাত্র কয়েকটি গাছ অবশিষ্ট আছে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের প্রভাষক আসলাম হোসেন জানান, হারিয়ে যাওয়া দেশীয় গাছের মধ্যে খেজুর অন্যতম। এ গাছ ভাঙন কবলিত এলাকার ভাঙন রোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারিভাবে বাঁধ ও নদীতীরে এ গাছ রোপণ করলে বংশ বিস্তার করবে।