বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়

জিটিবি স্পোটস ডেস্ক : মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিং ভারতের ইনিংস শেষে দ্বিতীয় ওয়ানডের ফল নিয়ে তেমন একটা অনিশ্চয়তা ছিল না। সাকিব আল হাসানের অর্ধশতকে ভারতকে ৬ উইকেটে উড়িয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। টানা পঞ্চম এই জয়ে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা নিশ্চিত হয়েছে তাদের। ভারত ইনিংসের ৪৪তম ওভারে বৃষ্টি নামলে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। আবার খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৭ ওভারে। রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের ল্য দাঁড়ায় ২০০ রান। জবাবে ৩৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ল্েয পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে ওয়ানডেতে এটি মাশরাফি বিন মুর্তজাদের টানা দশম জয়। ধবল কুলকার্নির বল এগিয়ে এসে মারতে চেয়ে পারেননি তামিম ইকবাল (১৩)। শেষ পর্যন্ত স্লিপে শিখর ধাওয়ানকে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সৌম্য সরকার (৩৪)। অর প্যাটেলের বলে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান লিটন দাস (৩৬)। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে অর্ধশত রানের জুটি গড়ে ফিরে যান মুশফিকুর রহিম (৩১)। রান আউট হন বাংলাদেশের অন্যতম এই ব্যাটিং ভরসা। এর আগে রোববার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৫ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত। মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি ব্যাটসম্যানরা। ভারতের ইনিংসের ৪৪তম ওভারে বৃষ্টি নামলে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকে। আবার খেলা শুরু হলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪৭ ওভারে। ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের ল্য এক রান কমে দাঁড়ায় ২০০। প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন প্রথম ওয়ানডের সেরা খেলোয়াড় মুস্তাফিজ। তার বলে পয়েন্টে সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন রোহিত শর্মা। প্রথম স্পেলে এই একটি উইকেট পেলেও পাঁচ ওভারের দ্বিতীয় স্পেলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন মুস্তাফিজ। দ্বিতীয় উইকেটে বিরাট কোহলির সঙ্গে ৭৪ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন শিখর ধাওয়ান। বিপজ্জনক হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙার কৃতিত্ব নাসির হোসেনের। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে কোহলিকে বিদায় করার পর ধাওয়ানকেও ফেরান নাসির। অর্ধশতকে পৌঁছে তার বলে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হন ধাওয়ান। মুশফিকুর রহিমের বদলে এই ম্যাচে কিপিং করা লিটনের প্রথম ওয়ানডে ডিসমিসাল তিনিই। ২ উইকেটে ১০৯ রানের সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা অতিথিরা বড় ধাক্কা খায় এক রানের ব্যবধানে ধাওয়ান ও অম্বাতি রাইডুর বিদায়ে। অজিঙ্কা রাহানের বদলে দলে ফেরা রাইডু ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো শূন্য রানে আউট হন। রুবেল হোসেনের বলে কাট করতে গিয়ে নাসিরকে ক্যাচ দেন তিনি। ১১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ভারত প্রতিরোধ গড়ে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও সুরেশ রায়নার ব্যাটে। ৫৩ রানের জুটিতে ধাক্কা সামলে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ার দিকে নিয়ে যান এই দুই জনে। তবে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে অতিথিদের ব্যাটিং গুড়িয়ে দেন মুস্তাফিজ। পাওয়ার প্লের প্রথম ওভারেই (৩৬তম) রায়নাকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তিনি। তার কাটার বুঝতে না পেরে লিটনের গ্লাভসে জমা পড়েন রায়না। এক ওভার বিরতির পর আবার আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। এই বাঁহাতি পেসারের দুর্দান্ত দুই বলে ফিরে যান ভারতের সবচেয়ে বড় ভরসা ধোনি ও অর প্যাটেল। মুস্তাফিজের স্লোয়ারে পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে সৌম্য সরকারকে সহজ ক্যাচ দেন ধোনি আর এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন দলে ফেরা অর।
মুস্তাফিজ ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার চমৎকার বোলিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ১৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় ভারত। হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেওয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে পরের ওভারেই ফেরান মুস্তাফিজ। এই উইকেটে ব্রায়ান ভিটোরির পাশে বসেন ১৯ বছর বয়সী এই পেসার। ওয়ানডেতে কেবল এই দুই জনেরই প্রথম দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট করে নেয়ার কৃতিত্ব আছে। বৃষ্টির কারণে দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হলে মাত্র ৭ বল টেকে ভারতের ইনিংস। নিজের শেষ বলটি করতে আসেন মুস্তাফিজ। এই বলে রবিন্দ্র জাদেজাকে বোল্ড করে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। ভুবেনেশ্বর কুমার লিটনের চতুর্থ ক্যাচে পরিণত করে দুইশ’ রানে ভারতের ইনিংস থামিয়ে দেন রুবেল। প্রথম ওয়ানডেতে দলের ৭৯ রানের জয়ে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এবার ৬ উইকেট নিতে খরচ করেন ৪৩ রান। পাঁচ ওভারের প্রথম স্পেলে ৩২ রানে এক উইকেট নেওয়া মুস্তাফিজ পরের স্পেলে মাত্র ১১ রানে নেন পাঁচ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পরপর দুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ১০ ওভারের কোটা পূরণ করা নাসির ৩৩ রানে নেন দুই উইকেট। দুই উইকেট নেন পেসার রুবেলও।

সর্বশেষ সংবাদ