কারাবন্দী কবুতরটিকে মুক্তি দিন— দীপক কুমার কর

একটি কবুতরের গোয়েন্দাগিরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি গণমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ‘গোয়েন্দাগিরির দায়ে পাকিস্তানী কবুতরের জেল ভারতে’, ‘পাকিস্তানের গুপ্তচর সাদা পায়রা আটক’, এধরনের নানা শিরোনামে সংবাদটি দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে। একটি কবুতরকে ঘিরে আধুনিক বিশ্বে সম্ভবতঃ এটাই প্রথম আলোড়ন সৃষ্টিকারী খবর।
খবরে প্রকাশ, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বুধবার পাঞ্জাব সীমান্তের পাঠানকোট থেকে একটি সাদা পায়রা আটক করেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে পায়রাটি পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিল। শুক্রবার ভারত-পাকিস্তানের গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। পুলিশের দাবি, পায়রাটির পায়ে উর্দুতে মার্ক করা একটি চিহ্ন ছিল। আটকের পর পায়রাটিকে স্থানীয় পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয় এবং এক্স-রে করা হয়। কিন্তু এটির সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের জিও নিউজ। অন্যদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব পুলিশ ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে বৈঠকের সময় পায়রাটি সীমান্ত অতিক্রম করে। পাঠানকোটের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার রাকেশ কুশালের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলেছে, পায়রাটি থেকে নেতিবাচক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সেটি আটক রাখা হয়েছে।
হতে পারে পাখিটি গোয়েন্দাগিরির জন্যই ভারতে ঢুকেছে। অথবা পাখিটি নিছক উড়তে উড়তে ভারত সীমান্তে ঢুকে পড়েছে। হতে পারে পাখির মুক্ত স্বাধীন উড্ডয়নের ক্ষেত্রে এটা শুধুই একটি ঘটনা। কেননা তার কাছে কোন গোপন তথ্যের দলিল কিংবা সাজা নিশ্চিত করার মত উল্লেখযোগ্য কোন কিছু পাওয়া যায়নি। তাই পাখির হাজতবাসের ঘটনা আমার অন্তরে বিশেষ বেদনার সৃষ্টি করেছে। শুধু আমি কেন প্রকৃতি পরিবেশ তথা জীববৈচিত্র্য নিয়ে যারা কাজ করেন। তাদের বোধহয় এখবরে একটু বিচলিত হওয়ারই কথা। কেননা এক্ষেত্রে শুধু সীমান্ত অতিক্রমের অপরাধ ছাড়া অন্যকোন অপরাধ পরিলক্ষিত হয়নি। আর সীমান্ত অতিক্রমের অপরাধে পাখিকে অভিযুক্ত করা যায়না। কেননা বিশ্বের একটি প্রাণীই ভিসামুক্ত বিশ্ব উপভোগ করে থাকে তা হলো পক্ষীকূল। তাই সুদুর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পাখিদের আমরা অতিথি পাখি হিসাবে সমাদর করে থাকি। তাদের উপর আঘাত না হানার বিধি নিষেধও আছে প্রায় প্রতিটি দেশেই।
আর পাখিটির পায়ে যে ঊর্দু ভাষার যে সংকেত বিদ্যমান তা মানব সৃষ্ট। এই ব্যক্তি ঊর্দু ভাষা-ভাষী কোন পাকিস্তানী কিংবা ভারতীয়ও হতে পারে। হতে পারে পাখিটি ভারতেই বাসিন্দা। এক মালিকের অনেকগুলো কবুতর থাকলে তা পৃথক পৃথকভাবে চিহ্নিত করার জন্যও তো এমন সংকেত ব্যবহার করা হতে পারে। আর যদি পাখিটি সত্যিই গোয়েন্দা হয় তবে তার কমান্ডার বা মালিককে খুঁজে বের করা দরকার। কেননা গোয়েন্দা কর্মে নিয়োজিত হয়ে থাকলেও সে তার কমান্ডারের নির্দেশে করেছে। আমরা জানি হুকুমের আসামীই মূল আসামী। আর এক্ষেত্রে কবুতরটির কমান্ডার বা মালিককে খুঁজে বের করতে পারলেই সব রহস্য উম্মোচিত হতে পারে। আধুনিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জীব জগৎ, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের নিমিত্ত বিভিন্ন আইন বলবৎ আছে। সেখানে পশু-পাখির স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে বলে আমরা জানি। তাই শুভ্র ডানায় ভর করে উড়ে উড়ে বিশ্বকে পরিভ্রমণ করার ক্ষেত্রে তার যে অধিকার তথা স্বাধীনতা, তা কি এই কারাবাসের কারণে খর্ব হচ্ছে না?
কবুতর বা পায়রা, কপোত বা পারাবত এক প্রকারের জনপ্রিয় বুদ্ধিমান গৃহপালিত পাখি। শান্তির পায়রা হিসাবে এর মর্যাদা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন আনন্দ অনুষ্ঠানে শান্তির পায়রা অবমুক্ত করে (আকাশে উড়িয়ে) অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করা হয়। এরা পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে সক্ষম। তাই বারবার দুর দুরান্তে গিয়েও নিজ ঠিকানায় ফিরে আসতে এদের অসুবিধা হয় না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে বার্তা পাঠাতে কবুতরকে ব্যবহার করেছেন। প্রাচীন কালে কবুতরের মাধ্যমে চিঠি আদান-প্রদান করা হত। কবুতর ওড়ানোর প্রতিযোগিতা প্রাচীন কাল থেকেই প্রচলিত আছে। বিভিন্ন রং, বৈশিষ্ট্য, গুণাগুণ, চোখের রঙ ও আকৃতির উপর ভিত্তি করে কবুতরের নামকরণ বা জাত ঠিক করা হয়। এদের সচরাচর জাতগুলো হলোঃ হোমার বা হোমিং পিজিয়ন, দেশী কবুতর গোলা, ভারতীয় জাতের লাক্ষা, সৌখিন সিরাজী. গিরিবাজ, ‘কাগজি’, চিলা, গোররা, চুইনা, রান্ট, প্রিন্স, পটার, ফ্রিল ব্যাক, জ্যাকোবিন, স্ট্রেসার, মডেনা, মুসল দম, নোটন ও কিং ।
তবে ভারতে আটক পায়রাটি সম্ভবত কাগজি জাতের (সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবি দেখে ধারণা)। কবুতরের পায়ে চিঠি বেঁধে দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার কাছে বার্তা পাঠানোর অনেক কাহিনী আছে। রাজকীয় ঐতিহ্যেও পায়রার একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। মোগল সম্রাট আকবরের সভাতেও কবুতর ছিল প্রায় ২০ হাজার। বিবর্তনবাদের প্রবক্তা চার্লস ডারউইনেরও কবুতর পালার শখ ছিল। ১৮৫৮ খৃষ্টাব্দে এলিয়ট ভারত ও বার্মার বিভিন্ন রকম কবুতরের চামড়া পাঠিয়েছিলেন ডারউইনকে। ডারউইনের সংগৃহীত কবুতর কংকালগুলো ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
মোঘল আমলে ঘুড়ি যেমন উড়ত, কইতরবাজিও সেইরূপ চলত। প্রাসাদের মেয়েরাও কবুতর ওড়ানোয় দক্ষ ছিল। ঢাকার নবাবদেরও এ শখ ছিল। কবুতরকে (জালালী কবুতর) ঘিরে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর অনেক কাহিনী আছে। বিভিন্ন তথ্যমতে- যোগাযোগ, গোয়েন্দাকর্ম, বস্তু ও ব্যক্তি শনাক্তকরণ ইত্যাদি কাজে পশুপাখিদের ব্যবহার অতি প্রাচীন। এ স¤পর্কে নানা ধরনের রূপকথা, উপকথা ও ঐতিহাসিক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। পশু-পাখিদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে কবুতর। এ স¤পর্কে সবচেয়ে প্রাচীন ঘটনাটি হযরত নূহ (আ:) এর সময়কালে পৃথিবীতে যখন প্রবল বন্যা শুরু হয়, তখন তিনিএকটি নৌকায় জোড়ায় জোড়ায় সকল প্রাণী উঠিয়ে ও তার অনুসারীদের নিয়ে একটি পর্বতে আশ্রয় নেন। অনেক দিন হয়ে গেলে বন্যার পানি নেমে গেছে কিনা তা জানার জন্য সমতলে একটি কবুতর প্রেরণ করা হয়। কিছু দিন সমতল পর্যবেক্ষণ করে কবুতরটি আবার নুহের কাছে ফিরে আসে। সমতলে ফেরা নিরাপদ তা বোঝানোর জন্য সংবাদবাহক কবুতর তার ঠোঁটে করে একটি জলপাই ডাল নিয়ে আসে। একাদশ শতকে বাগদাদে কবুতরকে খবর আদান প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। চেংগিস খাঁ কবুতরের মাধ্যমে তার বিশাল রাজ্যের খবর আদান প্রদান করতেন। কবুতরকে সংবাদ বাহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যাপক ব্যবহার করা হয় যুদ্ধকালীন সময়ে। ১৮৭০-৭১ খৃষ্টাব্দে প্রাসিয়ার যুদ্ধে প্যারিসের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কবুতর ব্যবহার করা হয়। এরপর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কবুতরের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে মানুষের জন্য দুর্গম স্থান থেকে সংবাদ আদান প্রদান কবুতর দিয়ে করা হত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া আমেরিকান ব্যাটালিয়ানের সন্ধান ‘চারআমি’ নামের একটি সংবাদবাহক কবুতর দ্বারা পাওয়া যায়। এ কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চারআমি কবুতর রূপকথার নায়কে পরিণত হয়েছিল। যুদ্ধের সময় সংবাদ আদান প্রদানের বীরত্বপূর্ণকাজের জন্য সৈন্যদের পাশাপাশি তাই কবুতরদেরও সম্মানসূচক ব্যাজ বা উপাধী দেয়া হত।
১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে ব্রিটিশ-ভারত সরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে জানাযায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর পক্ষে শুধু কবুতর পরিচালনার জন্য প্রায় ৯০ হাজার লোক নিয়োজিত থাকত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও কবুতর পরিচালনাকারীর সংখ্যাও ছিল অনুরূপ। ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য পুলিশের কাজে কবুতরের ব্যবহার করার ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। তবে সারা বিশ্বের সকল কবুতরের তুলনায় অতি নগন্য সংখ্যক কবুতর দ্বারা মানব প্রদত্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব বার্তা-বাহকের কাজ করানো সম্ভব হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উড়িষ্যা পুলিশ ব্রিটিশ সেনাবাহিনী থেকে কিছু কবুতর ও প্রশিক্ষক সংগ্রহ করে। ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমে সেখানে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কবুতর সার্ভিস চালু করা হয়। পরে উড়িষ্যার ১২ টি জেলাতেই তা চালু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বেতার ব্যবস্থার অনুপস্থিতির জন্য উড়িষ্যা পুলিশের অধঃস্তন অফিস, থানা, ফাঁড়ি, সার্কেল ইত্যাদির সাথে কবুতর যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হয়। ১৯৫৫, ১৯৬০ ও ১৯৯৯ খৃষ্টাব্দের প্রলংকারী বন্যা ও ঘুর্ণিঝড়ের সময় কবুতর সার্ভিস আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে দারুণভাবে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়। ১৯৯৯ খৃষ্টাব্দে, যখন যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম বিকাশ ঘটে তখনও ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যে ৩৮টি কবুতর সার্ভিস কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ১২০০ সংবাদবাহী কবুতর কর্মক্ষম ছিল। তবে ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বর্তমানে মাত্র ১৫০টি কবুতর ও দুইটি কতুতর কেন্দ্র চালু রয়েছে। পৃথিবীতে কবুতরের প্রায় সহস্র প্রকার জাতের মধ্যে শুধু হোমার জাতীয় কবুতর তথ্য আদান প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হয়। এসব কবুতরের ডানা মাংসল ও শক্ত। এরা ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে উড়তে পারে এবং তার বাসস্থল থেকে ১৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গিয়ে ফেরত আসতে পারে। কবুতরের বাচ্চার বয়স ৪২ দিন হলেই তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করা হতো। প্রশিক্ষণ শেষে পর্যায়ক্রমে এক দুই করে ১০০-২০০ কিলোমিটার দুরে ছেড়ে দেয়া হয়। এভাবে ক্রমাগত দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিলেও যখন প্রশিক্ষণার্থী কবুতর নির্ভুলভাবে নিজ খোপে ফিরে আসতে পারে তখন তাদের দূরপাল্লার তথ্য পরিবহনের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়। দূর পাল্লার গন্তব্য প্রেরণের জন্য, কবুতর জুটির পায়ে বিশেষভাবে তৈরি প্লাস্টিকের কৌটায় সংক্ষিপ্ত আকারে পত্র লিখে পুরে দেয়া হয়। বাচ্চা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এমন জুটি বা যুগোলকে একই সাথে একই তথ্যসহ গন্তব্যে প্রেরণ করা হয়। এর উদ্দেশ্যে হলো এতে বিপরীত লিঙ্গের অপরিচিত কবুতর সংবাদ বাহককে প্রলুব্ধ করতে পারবে না; একটি কবুতর পথ ভুল করলে অন্য কবুতর পথ চিনিয়ে দিতে পারবে; পথে কোন বাধা এলে যৌথভাবে তা মোকাবেলা করতে পারবে এবং কোন কারণে একটি কবুতর নিরুদ্দেশ হলেও অন্যটি সংবাদ পরিবহনের কাজটি শেষ করতে পারবে। ব্যুমেরাং পদ্ধতিতে একজোড়া কবুতরকে ছেড়ে দেয়া হলে তারা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। এখনও ভারতের উড়িষ্যা রাজ্য পুলিশেই কবুতরকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে কবুতরকে সংবাদ বাহক হিসেবে ব্যবহার অলাভজনক ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ছে।
তাই এখন কবুতর দিয়ে গোয়েন্দাগিরির বিষয়টি আমলযোগ্য নয় বলেই আমার মনে হয়। অপরদিকে আধুনিক পরিবেশবাদী আইন-কানুনের বদৌলতে কবুতরটির মুক্তি পাওয়াই উচিৎ। আর মুক্তি দিয়ে কবুতরটি অনুসরণ করলে তার মালিক বা কমান্ডারকেও খুব সহজে সনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। আর তাতে সত্য উদঘাটিত হবে এবং এর পেছনে দুরভিসন্ধি আছে নাকি নিতান্তই এটা প্রাকৃতিক বা পাখিটির স্বভাবজাত আচরণ তা প্রমাণিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী এনিয়ে উৎকন্ঠার প্রশোমন হবে।
পায়রার সাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাত্রায় ‘জুটি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন বাড়িতে কবুতর জুটি বাঁধলে গৃহস্ত নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। অথচ আটক কবুতরটি আজ জুটিহীন। আকাশ পথে স্বাধীন ভ্রমনের এই খেশারত তাকে প্রিয় বিরহের দহনে নিপতিত করেছে অতি সতর্কতার করাদন্ডে। তার জন্য পথ চেয়ে থাকা জুটির অপর নির্দোষ সঙ্গীর কাটছে নিদারুন বিরহ কাল। যে মধুর মূহুর্তগুলো উভয়ে পার করছে তিক্ত-নিঃশ্বাসে, কোন মূল্যে তার মিটবে দাম ? চোখের জলে, বুকের দীর্ঘশ্বাসে সাথীহারা পাখি জুটির বিরহ-যাতনার অভিযোগ কি আটক পাখির উপর আরোপিত অনুমান নির্ভর অভিযোগের চেয়ে তুচ্ছ? শান্তি-সুখের প্রতীক হিসাবে সিংহভাগ পায়রার আদিকাল থেকে অর্জিত সনদের চেয়েও কি কতিপয় পায়রার গোয়েন্দাগিরির অপরাধ (মানব স্বার্থে) বেশি ভারী ? সকল বিচারকের উপর যিনি নিক্তিধারী তার পাল্লায় নির্ণিত ‘দায়’ এর ভারটি কে বইবে??? তাই প্রার্থনা- স্রষ্টার অপার সৌন্দর্যময় সৃষ্টি ও জন্মগতভাবে মুক্ত স্বাধীন শান্তির প্রতীক পায়রাটিকে তার প্রকৃতিগত প্রাপ্য শান্তি থেকে বঞ্চিত না করে মুক্তি দিন।

লেখক ঃ পরিবেশবাদী সাংবাদিক ও কলামিস্ট।