হাটহাজারীতে জুন উৎসব নিঃস্প্রাণ

 হাটহাজারী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : হাটহাজারীতে জুন উৎসব প্রাণহীণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন এর প্রকল্প তদারকির কারণে এ অবস্থা হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা যায়,প্রত্যেক বছর জেলা উপজেলা পর্যায়ের ইউনিয়ন গুলোতে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের বরাদ্দের অর্থ জুন মাসে ছাড় দেওয়া হয়। অর্থ বছরের জুন মাস হলো শেষ মাস। তাই এ মাসে উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়ন গুলোতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য(কাবিকা),টেষ্ট রিলিফ(টিআর),ওয়ান পারসেন,এলজি এসপি,এডিপিসহ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন প্রকার সরকারি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। এসব বরাদ্দের অনেকাংশে কাজ না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। দায়িত্বশীল প্রশাসনের সাথে ঠিকাদার,উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তি কিংবা প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান এসব প্রকল্পের টাকা কাজ না করে সাত পাঁচ করার কথা অনেকটা সর্বজন বিধিত গোপন ব্যাপার। এ কারণে উপজেলার আওতাধীন দায়িত্বশীল দপ্তরে জুন কোজিং এর সময় অবৈধ অর্থ আদায়ের উৎসব চলে।এসময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী,ঠিকাদার,প্রকল্প কমিটির চেয়ারম্যান সহ দায়িত্বশীলদের মধ্যে বিশাল অংকের ভাগবাটোয়া হয়। প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে উপজেলা হিসাব রক্ষণ দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করে থাকে। সম্প্রতি এক উপজেলার একজন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়। তিনি আহত হওয়ার ঘটনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান,জুন কোজিংএ কথিত কর্মকর্তা ৪/৫ লক্ষ টাকা আয় থেকে বঞ্ছিত হয়েছে।হাটহাজারীতে জুন উৎসব এবার প্রাণহীন। কারণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন প্রতি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প সরকারি নির্ধারিত সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও তদারকি করছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর প্রয়োজন। তিনি প্রকল্প তদারকি করে যেখানে সুষ্ট ভাবে কাজ সম্পন্ন হয়েছে সে প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। যেসব প্রকল্পের কাজ যথাযথ হয়নি সেখানে তিনি অর্থ ছাড় দেবে না বলে সাংবাদিকদের জানান। ফলে অতিথে কাজ না করে প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোরা করে নেয়ার রেওয়াজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাটহাজারীতে জুন উৎসব নিঃস্প্রাণ বলে প্রচারিত হচ্ছে। হাটহাজারীতে বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি হাটহাজারী প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম : হাটহাজারী উপজেলার হাটবাজার গুলো পবিত্র রমজানের সময় মনিটরিং এর জন্য প্রতিবাজারে একজন কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি উঠেছে। উপজেলার আওতাধীন হাটবাজরে পচা বাসি ভেজাল ক্ষতিক্ষর রঙ মিশ্রিত খাওয়ার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিজ্ঞমহল এ দাবি জানিয়েছেন।জানা যায়,উপজেলার আওতাধীন ৪৪ টি হাটবাজার রয়েছে। এর মধ্যে নাজিরহাট, নুরআলী মিয়ারহাট, কাটিরহাট, মনিয়াপুকুরস্থ এনায়েতপুর বাজার, সরকারহাট, চারিয়া নয়াহাট, হাটহাজারী বাজার,বাস ষ্ট্যান্ড, কলেজ গেইটস্থ বৌ বাজার, ইছাপুর ফয়েজিয়া বাজার, মদনহাট, ইসলামিয়ার হাট, নন্দীরহাট, বিশ্ববিদ্যালয় ২ নং গেইটের মাথা, চৌধুরীহাট, লালিয়ার হাট, আমান বাজার, মদুনাঘাট বাজার, বড়দিঘীরপাড়, নজুমিয়ার হাট, বুড়িশ্চর বাজার প্রভৃতি হাটবাজার উপজেলার মধ্যে অপেক্ষাকৃত নাম করা বাজার। এসব বাজারের অধিকাংশতেই দোকান পাটে সরকারি নিয়ম মোতাবেক কোনো মূল্য তালিকা টাঙানো নেই। এতে ক্রেতা ভোক্তারা মালামাল কিনতে গিয়ে বিভ্রান্তির শিকারে পরিণত হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে অতিরিক্ত মূল্য নেয়ার কথা মানুষের মূখে মুখে। তা ছাড়া হাটবাজারে পচা, বাসি, ভেজাল এবং ক্ষতিক্ষর রঙ মেশানো ইফতারিসহ নানা চটকদার খাদ্য দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। হাট বাজারে দোকানপাট নকল ভেজাল ঘিতে সয়লাব হয়ে গেছে। এসব স্বাস্থ্য হানিকর খাবার খেয়ে মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই উল্লেখিত হাটবাজারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ফোর্স সহ একজন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাকে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে তদারকির জন্য নিয়োগ দেওয়ার দাবি সর্ব মহলের। প্রতিদিন না হলেও অন্তত নির্ধারিত বাজারের দিন কিংবা জটিকা অভিযান পরিচালনা করলে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। ক্রেতা ভোক্তারা ও নির্ধারিত মূল্য দিয়ে মালামাল ক্রয় করতে পারবে বলে সচেতন মহল মতো প্রকাশ করেছেন।