বরিশাল বিদ্যুৎ সংকট কমাতে ২৩০কেভি লাইন চালু

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ভোলা কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে বরিশাল-ভোলা ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চালু করা হয়েছে। পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) নির্মিত এ লাইনটি চালু করার ফলে ভোলাসহ বৃহত্তর বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট কমবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
বরিশাল-ভোলা ২৩০কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্প পরিচালক মৃনাল কান্তি পাল জানান, গত ১৮ জুন বিকেলে বরিশাল প্রান্ত থেকে ২৩০ কেভি লাইনে প্রথম বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হলেও জাতীয় গ্রীডে সঞ্চালন শুরু হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে। বরিশাল-ভোলা পর্যন্ত এ লাইনের দৈর্ঘ্য ৬৩ কিলোমিটার। বর্তমানে ভোলা পাওয়ার প্যান্ট থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ এ লাইনে সঞ্চালিত হচ্ছে। কম্বাইন্ড সাইকেল ভোলা পাওয়ার প্যান্টের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে ২২৫ মেগাওয়াটের। তবে প্রথমপর্যায়ে ১৪০ মেগাওয়াটের প্যান্ট চালু হচ্ছে। আগামি অক্টোবরে কম্ব^াইন্ড সাইকেল চালুর মাধ্যমে পূর্ণ উৎপাদন শুরু হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাইভোল্টেজ এ লাইন নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকা। বরিশালে ২৩০/১৩২ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণে ব্যয় হয় ১১৩ কোটি টাকা। নতুন এই লাইনের মাধ্যমে ভোলা দ্বীপাঞ্চল হাইভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনে জাতীয় গ্রীডে সংযুক্ত হয়েছে। ভোলায় উৎপাদিত বাড়তি বিদ্যুৎ প্রধানত বৃহত্তর বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে সঞ্চালন করা হবে। ২৩০ কেভি ডাবল সার্কিট লাইনটি দিয়ে ৭০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা যাবে। বর্তমানে নির্মিত গ্রীড উপকেন্দ্রের সমতা ৫৪০ মেগাওয়াট।
পিজিসিবির প্রধান প্রকৌশলী অরুন কুমার সাহা বলেন, ভোলা ও বরিশালকে ২৩০ কেভি লাইনে সংযুক্ত করতে তেঁতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপর দিয়ে সু-উচ্চ রিভার ক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এ ধরনের টাওয়ার নির্মাণকাজ তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল। তা ছাড়া তেঁতুলিয়া ও কালাবদর নদীর ওপরে প্রায় ছয় কিলোমিটার জুড়ে সাতটি ৪৩০ ফুট উঁচু টাওয়ার নির্মাণ করতেও খরচ বেশি পড়েছে। তবে নতুন লাইন চালু হওয়ায় বরিশাল, ভোলা ও খুলনাঞ্চলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা গুণগতভাবে উন্নত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।