শিবগঞ্জের কুড়াহারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলেকে মারপিট, থানায় অভিযোগ দায়ের

রবিউল ইসলাম রবি শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার আটমূল ইউনিয়নের কুড়াহার দক্ষিণ পাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও ছেলেকে অর্তকিত ভাবে মারপিটের খবর পাওয়া গিয়েছে।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুড়াহার দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম কাজীর সাথে একই গ্রামের হোসাইন আহম্মেদের লোক ঠকানো মিথ্যা তাবিজ-কবজের ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির পর হোসাইন আহম্মেদগংরা নজরুল ইসলাম কাজীকে জীবননাশের হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ইফতারের পূর্বে নজরুল ইসলাম কাজী ধানের জমি থেকে বাড়ি ফেরার পথে একা পেয়ে বিবাদী হোসাইনের বাড়ির সামনে আসা মাত্রই কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ৩নং বিবাদী মোফাজ্জল হোসেন মোল্লার হুকুমে ১নং বিবাদী হোসাইনসহ সকলে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নজরুল ইসলাম কাজীর উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। ডাক চিৎকার শুনে নজরুল ইসলাম কাজির ছেলে নুরুজ্জামান চুন্নু এগিয়ে আসলে তাকেও ২নং বিবাদী ইয়ামিনসহ সকলে রড ও বাঁশ দিয়ে হামলা চালায়। মারপিটের এক পর্যায়ে বাবা ছেলে মাটিতে পরে যায়। গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে বিবাদীরা জীবননাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন নজরুল ইসলাম কাজী ও নুরুজ্জামানকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয়। করোনা ভাইরাসের কারণে তাদের হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা প্রদান করে বাড়িতে যেতে বলা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম কাজীর মাথায় ৫টি সেলায় দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তার ছেলে নুরুজ্জামানের মাথায় গুরুতর জখম, হাতে ও পিঠে গুরুতর আঘাত এবং বাম হাতের সব কয়টি নখ ভেঙ্গে গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হোসাইন আহম্মেদ, ইয়ামীন, মোফাজ্জল হোসেন মোল্লা, শাহানারা বেগম ও মোকছেদা বেগমকে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। হামলার বিষয়ে নজরুল ইসলাম কাজী বলেন, বিনা উষ্কানিতে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে, আমি আইনের কাছে সুষ্ঠ বিচার দাবী করছি। তবে সচেতন একটি মহল বলছে স্থানীয় মেম্বার আঃ হান্নান ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য মিথ্যা আহতের উল্টো নাটক সাজাচ্ছে। তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। হামলার বিষয়ে বিবাদী হুসাইন আহম্মেদ বলেন, নজরুল ইসলাম কাজীকে কে মেরেছে আমি জানিনা। ঘটনার প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী সাহেদা, আনারুল ও মাহাবুর রহমান বলেন, মোফাজ্জল হোসেনের যোগসাজশে উক্ত হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। মারপিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে শিবগঞ্জ থানার অফিসার (ইনচার্জ) ওসি মিজানুর রহমান বলেন, এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।