বগুড়ায় তিন দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আজ ১৩ মে’২০২০ বেলা:১১:৩০ টায় সাতমাথায় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বাসদ বগুড়া জেলা আহŸায়ক এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শ্যামল বর্মন, জেলা সাংগঠনিক স¤পাদক মুক্তা আক্তার মীম, অর্থ স¤পাদক নিয়তি সরকার প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারীতে দেশ এক সংকটকাল অতিক্রম করছে। শ্রমজীবী মানুষেরা ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ফলে তাদের আয়ের সমস্ত পথ বন্ধ। অর্থনৈতিক সংকটে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। পরিবারের খরচ যোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে সরকার সংক্রমন রোধ করতে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আমরা জানতে পারছি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদ শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন-ফি প্রতিষ্ঠানে জমা দেবার নোটিশ জারি করছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন এহেনো সিদ্ধান্তে আমরা হতবাক হয়েছি৷ অপরদিকে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী অধিকাংশ শিক্ষার্থী যারা কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মেস/ ভাড়াকৃত বাসায় থেকে শিক্ষাগ্রহন করতো তারা মেস / ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। আমাদের দেশের নি¤œ আয়ের মানুষের সন্তানেরা যারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন সেই শিক্ষার্থীর অধিকাংশই টিউশনি/খন্ডকালীন চাকুরী করে শিক্ষাজীবন পরিচালনা করেন৷ এই শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ পরিবারের কর্মজীবীরা তাদের হাত চললে পেট চলে, করোনা পরিস্থিতিতে আজ তারা কর্মহীন হয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিশেহারা হয়ে দিনাতিপাত করছে এবং শিক্ষার্থীদের নিজের টিউশনি বা খন্ডকালীন চাকরি না থাকায় কোন ক্রমেই এই শিক্ষার্থীদের পক্ষে মেস /বাসা ভাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় আমরা অনতিবিলম্বে এ সকল শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও মেস-বাসা ভাড়া মওকুফ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা এবং সরকারি বরাদ্দ দেয়ার জোর দাবি জানায়৷ কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে সরকার সেদিকে না গিয়ে, নিরবতার ভান করে মুনাফা লোভী মালিকদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন । আবার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ক্লাস-পরিক্ষা নেয়ার প্রস্তাাব দিয়েছে এ ক্ষেত্রে আমরা মনে করি আমাদের মত ধনবৈষম্যের সমাজ অর্থনীতির দেশে অনলাইনে ক্লাস-পরিক্ষা নেয়াতে আরও বৈষম্য বৃদ্ধি পাবে, গ্রামের একজন নিæ আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট কানেকশন ও ব্যবহারের জন্য একটি ডিভাইজ এর নিশ্চয়তা কে দিবে, যদি না দেয়া হয়, তাহলে কি ভাবে অন লাইনে ক্লাস করবে। আমাদের দেশে ডিভাইসগুলো কতটুকু কার্যকর তা নিয়েই নানান প্রশ্ন রয়েছে। সে কারণে পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত না করে,তাড়াহুড়া করে অন লাইনে ক্লাস-পরিক্ষা শুরু করা হলে তা শিক্ষার্থীদের চরম বৈষম্যের মধ্যে ফেলবে। তাই নেতৃবৃন্দ নি¤েœাক্ত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহব্বান জানান।
দাবিসমূহ:
১। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ বছরের বেতন-ফি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করতে হবে
২। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাসা-মেস ভাড়া মওকুফে প্রজ্ঞাপন ও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ দিতে হবে
৩। সকলের জন্য পর্যাপ্ত আয়োজন নিশ্চিত করা ছাড়া অনলাইন ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া চলবে না।

সর্বশেষ সংবাদ