বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রাপ্ত মনিরুজ্জামান বিদেশী জাতের তরমুজের দাম পাচ্ছেন না করোনার কারণে

মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী, রাজশাহীঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের চৈতন্যপুরে  বানিজ্যিক ভাবে চাষ হয়েছে বিদেশী হলুদ জাতের তরমুজ। মনিরুজ্জানের  খামারে চাষ হচ্ছে হানি ডিউ, রক মেনন, স্পেনিস জাপানী নানান জাতের বিদেশী তরমুজ।
করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনে দীর্ঘ সময় পরিবহন বন্ধ থাকায় বিপদে পড়েছেন গোদাগাড়ীর একমাত্র বিদেশী হলুদ জাতের তরমুজ চাষী মনিরুজ্জামান। তিনি এ অবস্থায় তেমন ভাবে বাজার জাত করতে পারছেন না।
চ্যানেল আই এর ব্যুরো চীফ ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার রাজশাহী জেলা শাখার সহ-সভাপতি আবু সালেহ ফত্তা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুরে বাংলা ১৪২০ সালে  বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রাপ্ত তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজজামান মনিরের খামারে শুধু বিদেশী চাষই করেন না,  সে মাচায় টমেটো চাষও করে থাকেন। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই করোনার লক ডাউনে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন এই কৃষক। আমি কৃষকের সন্তান। আমি বুঝি মনিরের কষ্ট। সেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু ভালো লাগা থেকে কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এখন সে ক্ষতিগ্রস্ত। তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব।
এই তরমুজের উপরটা হলুদ হলেও ভেতরটা টকটকে লাল। খেতেও বেশ সুস্বাদু মিষ্টি। সাইজে খুব একটা বড় না হলেও এগুলো বেশ রসালো। দেশি তরমুজের তুলনায় এই তরমুজের ফল সংগ্রহ করতে অনেক কম সময় লাগে এবং বেশি দামে বিক্রি করা যায়। বিদেশী এই তরমুজ চাষ করতে কোনো সিজনের প্রয়োজন হয় না, বছরেরর সবসময় চাষ করা যায় । তুলনামূলক ভাবে বাংলাদেশী তরমুজের চেয়ে এই তরমুজের দাম বেশি পাওয়া যায় বলে দেওপাড়া ইউনিয়নের সৌখিন কৃষক মনিরুজ্জামান মনির তার জমিতে এই তরমুজ চাষ করছেন।
এ ব্যপারে মনির হোসেন জানান, বিদেশী হলুদ জাতের তরমুজ চাষ করে আমি আনন্দ পাই, কেন না অনেক দূর দূরান্ত থেকে সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, কৃষক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ দেখার জন্য আসেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন আমার দেহ মন পড়ে থাকে এ তরমুজ ক্ষেতে। ফলন ভাল হচ্ছে কিন্তু দুঃখের বিষয়  করোনা ভাইরাসে লকডাউনের কারণে ঠিকভাবে বাজার জাত করতে না পারায়, ভাল দাম থেকে বঞ্চিত। সব কিছু আল্লহর ইচ্ছা, মানুষ বেঁচে থাকলে ব্যবসা হবে আবার। তাই আমরা সবাই শারিরীক দূরুত্ব বজায় রাখি, স্বাস্থ্য বিধি মেনে করোনা যুদ্ধে জয়লাভ করি।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম সৌরভ বলেন, এ হলুদ জাতের তরমুজ অত্যান্ত সুস্বাদু, দেখতে আকর্ষণীয়, ফলন ভালো হয়, আকর্ষণীয় রং হওয়ায় দাম ও চাহিদা বেশি। গোদাগাড়ীর চৌতন্যপুরে  শুধু মনিরুজ্জামান তার ৫ বিঘা জমিতে হলুদ তরমুজ চাষ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ মতিয়র রহমান
বলেন, হলুদ তরমুজ তার ব্যতিক্রমী রঙের কারণে সকলের কাছে বেশ আকষর্ণীয় হয়ে উঠেছে।  বাজারে এর ভালো চাহিদা রয়েছে। চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় হলুদ তরমুজ এখন উচ্চমূল্যের ফসল হিসেবে বিবেচিত। একটু যত্ন নিলেই বছরের যে কোনো সময় এই ফসল ফলানো যায় এবং বেশ লাভবান হওয়া যায়। এ তরমুজে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম,অন্যদিকে পুষ্টিগুণ অনেক বেশি৷ আমার জানা মতে, মনিরুজ্জামানই এ তরমুজ চাষ আবাদ করেন। সঠিক নির্দেশনা ও সরকারী সাহায্য পেলে বিদেশী জাতের হলুদ তরমুজ চাষ গোদাগাড়ীতে  টমেটোর মত লাভজনক ফসল হতে পারে বলে সচেতন কৃষকদের ধারণা।