সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ শাজাহানপুরে মামলা না নিয়ে আপোষ-মিমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছে পুলিশ

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জের ধরে নুর আলম (৪৫) নামের এক দিনমজুরকে মারপিটে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় লিখিত এজাহার দিলেও তা রেকর্ড করা হচ্ছে না। উল্টো মারপিটকারীদের সাথে আপোষ-মিমাংসার প্রস্তাব দিচ্ছেন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা। গতকাল বুধবার সকালে শাজাহানপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন এজাহারের বাদি চাঁচাইতারা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র দিনমজুর নুর আলম।
লিখিত বক্তব্যে নুর আলম বলেন, চাঁচাইতারা বায়তুন নূর জামে মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ২৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারাবীর নামাজের পূর্ব মুহুর্তে ওই এলাকার আফতাব মোল্যার পুত্র আইয়ুব হোসেন, নজমল হোসেনের পুত্র রুহুল আমিন, মজিবর রহমানের পুত্র মোকাররম হোসেন সহ ৭ ব্যক্তি বাঁশের লাঠি, চাকু, লোহার রড নিয়ে মসজিদের সামনে আসেন এবং তারাবীর নামাজের মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে গালমন্দ করতে থাকেন। নুর আলম গালমন্দের প্রতিবাদ করলে তারা তাকে এলোপাথারী ভাবে মারপিট করে। মারপিটে নুর আলম গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকগণ তার মাথায় ৬টি সেলাই দেন।
অপরদিকে মারপিট চলাকালে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে রাত ৯টার দিকে শাজাহানপুর থানার ওসি মো: আজীম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ২৯ এপ্রিল থানায় হাজির হয়ে ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার করেন নুর আলম। এরপর শাজাহানপুর থানার এস.আই নূরুল ইসলাম ২ বার এবং এস.আই মাসুদ রানা ১ বার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও মামলা রেকর্ড না করে আসামীদের সাথে আপোষ-মিমাংসার প্রস্তাব দেয় থানা পুলিশ। অপরদিকে আসামীগণও তাকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় দিনমজুর নুর আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছেন। যে কোন সময় আসামীরা তার জানমালের ক্ষতি করতে পারে। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।