আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে গোদাগাড়ীর কৃষিচিত্র

মোঃ হায়দার আলী, গোদাগাড়ী ( রাজশাহী): রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। কৃষি বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। ফলে সর্বস্তরের কৃষি খাতে বৈজ্ঞানিক যান্ত্রিকীকরণের প্রসার ও জনপদে চাষিদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটতে শুরু করেছে। বরেন্দ্রাঞ্চলসহ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে কৃষি ব্যবস্থার আগের চিত্র বদলে গেছে। জমি চাষাবাদ, বীজতলা তৈরি থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই, বস্তাবন্দিসহ প্রতিটি স্তরে যোগ করেছেন আধুনিক প্রযুক্তি। আবাদি জমিতে কৃষকরা চাষ দেন ট্রাক্টর যন্ত্রে। সেচ পাম্প ব্যবহারে সেচ পদ্ধতিরও পরিবর্তন হয়েছে। চাষ দেয়ার মতো ধান মাড়াইতেও এখন আর গরু বা মহিষের ব্যবহার নেই বললেই চলে। বর্তমানে ধান কাটা মাড়াইয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে কম্বাইন্ড হারভেস্টরের। সকল কাজেই যন্ত্রের ছোঁয়া। যন্ত্র যেমন শ্রমকে বাঁচিয়েছে, তেমনি সময়কেও।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার উপজেলার বিজয়নগর এলাকায় ৬০ বিঘা জমিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ সুধেন্দ্র নাথ রায় ও উপ-পরিচালক শামছুল হক বোরো মৌসুমের সমকালীন চাষাবাদের কম্বাইন্ড হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাবন্দির কাজ পরিদর্শনে আসেন। তারা কম্বাইন্ড হারভেস্টর দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই দেখে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। এ আধুনিক যন্ত্র ধান কাটা অব্যাহতভাবে চলছে।

কৃষি উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, এসব যন্ত্র ব্যবহারে সরকার যথেষ্ট সুযোগ করে দিয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ে, কম খরচে এবং সময়মত ধান উত্তোলন ও বিক্রি করতে পারছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ মতিয়র রহমান বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার, এ কম্বাইন হারভেস্টর ক্রয় করতে সরকার দিচ্ছেন ৫০ ভাগ আর উপকারভোগি কৃষককে দিতে হচ্ছে ৫০ ভাগ অর্থ। গোদাগাড়ী কম্বাইন হাভেস্টরের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ মেশিন দিয়ে ধান কাটা মাড়াই, বাছাই ও বস্তাবন্দি সহজেই করা যায় তাই কৃষকের খরচ কম হয়।