রাজারহাটের উপমা রায় ঐশী ঢাকায় অপহরণ অপহৃত কে ২ মাসেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ

এ.এস.লিমন,রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ তাংঃ ১৫-০৫-২০২০ইং কুড়িগ্রামের রাজারহাটে উপমা রায় ঐশী (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ঢাকায় অপহরণ হওয়ার ঘটনায় ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। গত ২মাসেও পুলিশ তাকে উদ্ধার কিংবা অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে মামলা তুলে নিতে ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ৪ মার্চ ২০২০ তারিখে ওই ছাত্রীকে আশুলিয়া থানা দোসাদই বাজার এলাকার বখাটে জয় কুমার রায় (২৭) ও তাঁর লোকজন অপহরণ করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করে ওই ছাত্রীর পরিবার। এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।
ওই ছাত্রীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার উপ-হরিশ্বর নায়েকপাড়া এলাকার সুমন্ত কুমার রায় এর বখাটে ছেলে জয় কুমার রায় (২৭) আশুলিয়া থানার দোসাদই বাজার এলাকার তার মামা রতন ভূইয়ার বাড়ীতে থাকতেন। সে মোহাম্মদপুর এলাকায় এসে প্রায় ৭-৮ মাস ধরে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত ও প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিলেন। বিষয়টি আমার মেয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের জানায়। এতে জয় কুমার রায় ক্ষিপ্ত হয়। পরে ৪ মার্চ ওই ছাত্রী ঢাকা মোহাম্মদপুর এলাকার বাড়ির পাশের দোকানে ডিম কিনে বাড়ি ফেরার পথে ওই বখাটে জয় কুমার রায়(২৭) ও তাঁর লোকজন ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে তার বাবা উত্তম কুমার অনেক খোজা-খুজির পর স্থানীয় লোকমুখে জানতে পান , ওই ছাত্রীকে বখাটে জয় কুমার রায় ও তাঁর লোকজন অপহরণ করে নিয়ে গেছেন। পরে স্থানীয়ভাবে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। তাতেও কাজ না হওয়ায় ৫ মার্চ ২০২০ তারিখে  ওই স্কুলছাত্রীর মা চন্দনা রানী সরকার বাদী হয়ে জয় কুমার রায়(২৭)কে প্রধান আসামী করে পার্থ চন্দ্র রায়(১৮) ও সুমন্ত কুমার রায়(৫০)কে আসামী করে অজ্ঞাত নামায়ী ৫/৭ জনকে আসামী করে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন। যার মামলা নংঃ ১৮ তাংঃ ০৫-০৪-২০২০ইং।
ওই ছাত্রীর মা চন্দনা রানী সরকার বলেন, আমাদের স্থায়ী ঠিকানা রাজারহাট উপজেলার চাকিপশার ইউপির চাকিপশার তালুক এলাকায়। আমার স্বামীর কর্মস্থল মোহাম্মদপুর হওয়ায় আমারা সহপরিবারে এখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি। আমার মেয়েটি খুবই ছোট। সে এ বছর ঢাকা লালমাটিয়া গালর্স স্কুল থেকে এস এস সি পরীক্ষা দিল। গত ৭-৮ মাস ধরে আমার মেয়ে স্কুলে যাতায়াতে বখাটে জয় কুমার রায়ের উত্ত্যক্তের কথা প্রায়ই সে আমাকে বলত। পরে ওই ছাত্রীর বাবা উত্তম কুমার রায় ওই বখাটেকে একদিন নিষেধও করেছিলেন। কিন্তু ওই বখাটে তা–ও বিরক্ত করতেন। আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যাবে, আমরা এটা বুঝতে পারেনি। বর্তমানে মেয়েকে হারিয়ে আমি ও তার বাবা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ওই ছাত্রীর বাবা উত্তম কুমার রায় বলেন,অপহরণের ৩/৪ দিন পর্যন্ত ওই বখাটের আত্মীয়স্বজনের কাছে কতই না অনুরোধ করেছি আমার মেয়েটাকে দিয়ে দিতে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। মেয়েটা এখন কী অবস্থায় আছে, সেটাও আমরা জানি না। পরে বাধ্য হয়ে থানার মামলা করেছি। কিন্তু পুলিশ এখনো আমার মেয়েটাকে উদ্ধার করতে পারেনি। আমি আমার মেয়েটাকেই চাই। বখাটের পরিবার এখন মামলা তুলে নিতে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না দিলে নাকি মেয়েকে কোনো দিনও দেবে না।
এ বিষয়ে ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মোঃ সাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা রুজু হওয়ার পর অপহরণ বার্তা রাজারহাট থানাসহ বিভিন্ন থানায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।