মীমাংসার পরেও গোদাগাড়ীর কাউন্সিলর মোফার বিরুদ্ধে মামলা করলো মিনা

গোদাগাড়ী ( রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতাঃ গৃহবধু, ননদ ও শাশুড়ীর পারিবারিক বিরোধ মীমাংসায়   মারপিটের  ঘটনায় অবশেষে মামলা নিল রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার পুলিশ।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার ( এসপি) মো: শহীদুল্লাহ   গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং কাউন্সিলর ওমোফাজ্জল হোসেন মোফাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দেন। কিন্তু মিনা স্বেচ্ছায় মীমাংসা হয়ে গেছে বলে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলে মামলাটি হয়নি।
পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশের পর শুক্রবার সকালে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ নির্যাতনের শিকার গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী মহল্লার বানী  ইসরাইল ভোদলের  স্ত্রী গৃহবধু মিনা খাতুন   শুক্রবার সকালে নিজে  বাদী হয়ে মোফাজ্জল হোসেন মোফা , তার ছেলে রবিউল ইসলাম রবি ও মেয়ে ঝরণাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের একটি মামলা রেকর্ড করেন। মামলা নং-৮ তাং-১৫/৫ ২০২০ ইং।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে গোদাগাড়ী থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, মিনা খাতুন বাদী হয়ে এজাহার দিলে পুলিশ সেটি মামলা হিসাবে রেকর্ড করেছেন।
মামলা রেকর্ডের পরপরই পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চালিয়েছেন। তবে আসামিরা টের পেয়ে পালিয়েছে বাড়ি থেকে। এর আগে মিনা খাতুন মীমাংষা করার কথা বলায় মামলা পুলিশ মামলা করেনি।
উল্লেখ্য মোফাজ্জল হোসেন মোফা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহিষালবাড়ি মহল্লার মৃত্যু সেতাবুর রহমানের  ছেলে।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ৩ মে দুপুরে নিজেদের মিনা খাতুনের সঙ্গে তার শাশুড়ী ডলি বেগমের কথা কাটাকাটি হয়। এই ঘটনার জের ধরে মোফা কাউন্সিলর ডলি বেগমের পক্ষ নিয়ে মিনা খাতুনকে ঘর থেকে বের করে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেদম মারধর করেন।
 বিবস্ত্র অবস্থায় বাড়ির আঙ্গিণায় ফেলে মোফার ছেলে রবি ও মেয়ে ঝরণা খাতুন, মিনার মুখে নাকে ও পেটে লাথি মারতে থাকলে এক পর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মোফাজ্জল হোসেন মোফা এই সুযোগে মিনার ঘরে থাকা কিছু মুল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়।
 শেষে ন্যায় বিচারের আশায় মিনা গত ৬ মে ২ জন ডটকম সাংবাদিকের সহযৌগিতায় রাজশাহীর এসপি  মো:শহীদুল্লাহর সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এসপি  তাৎক্ষণিকভাবে মামলা রেকর্ড ও আসামি গ্রেফতারের নির্দেশ দেন থানার ওসিকে।
এদিকে গোদাগাড়ীর পৌর মেয়র মনিরুল ইসলাম বাবু, আকমাল হোসেন, মাহাবুবুর রহমান বিপ্লবসহ কয়েকজন কাউন্সলার বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে গত ৭ মে  থানা থেকে মিনাকে নিয়ে আসেন।
 গত ৮ মে পৌর কার্যালয়ে মেয়র, কাউন্সিলর রাজশাহী থেকে আগত ২ জন ডটকম সাংবাদিকদের নিয়ে শালিসে বসে মোফাকে অভিযুক্ত করে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই জরিমানার ৪০ হাজার টাকা মিনার স্বামীকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা নিজেরা ভাগাভাগি করেন শালিসকারীরা।
এ ব্যপারে কাউন্সিলর মোফাজুল হোসেন মোফার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি প্রতিহিংসার স্বীকার, একটি কুচত্রী মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।
মিনার শাশুড়ি, ননদ নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা হচ্ছিল এসময় আমাকে ডেকে নিয়ে যায়, আমার ছেলে ও মেয়ে ঘটনা স্থলে ছিল না। তাদের মধ্যে মারামারিতে মিনা আহত হয়। ওই মহিলা নিজ বাড়ীতে হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার করে প্রতিদিন শ শ মানুষের আনাগুনা হয় এগুলি নিষেধ করায় আমাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা মূলক মামলাটি করেছেন।