সাবেক সুপারের দূর্নীতি দৌড়াত্বে দিশেহারা কুড়িগ্রামের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মাদ্রাসার শিক্ষকরা

সাইফুর রহমান শামীম: কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে আলোর দিশা পায় সর্ববৃহৎ ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার অধিবাসীরা। তাদের সামনে খুলে যায় শিক্ষা লাভের দুয়ার। দাসিয়ারছড়ায় শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় একমাত্র ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসা। কিন্তু তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট আমিনুল ইসলাম মিয়ার নিয়োগ বাণিজ্য, দূর্নীতি, মাদ্রাসার জমি নিজের নামে করে নেয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মের কারণে চরম বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকৃতি ও প্রাথমিক অনুমোদন অর্জন করতে পারেনি। তিনি নিজে উপজেলার
মধ্য কাশিপুর দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভি পদে কর্মরত থাকায় নতুন প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার আগ্রহ কম ছিল বলে অভিযোগ অন্যান্য শিক্ষকদের। জানা যায়, এবছর ১৫ আগস্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমান সুপার শাহানুর আলম শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদ্রাসায় শোক দিবসের
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে তাদের ওপর অতর্কিতে
হামলা চালায় সাবেক সুপার ও তার লোকজন। এসময় আমিনুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলতে বলেন। থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক সুপার আমিনুল ইসলাম ১২ জন শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও মাদ্রাসার তহবিলের টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুপারের বিভিন্ন দূর্নীতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিটমহল আন্দোলনের নেতা আলতাফ হোসেন ও তৎকালীন সহ সুপার শাহানুর আলম ৩ মার্চ, ২০১৮ তারিখে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ২০ জুন, ২০১৮ তারিখে সরেজমিনে অভিযোগ তদন্ত করেন তৎকালীন জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদের কাজী। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি ৩২ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ, মাদ্রাসার ২৭ শতাংশ জমি নিজের নামে রেকর্ড, অবৈধ প্রভাব খাটনোসহ নিজের পরিবারের লোকদের নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগের প্রমাণ পান মর্মে উল্লেখ করেন। তিনি প্রহসনমূলক ভাবে গঠিত কমিটি ভেঙ্গে দেয়ারও সুপারিশ করেন। এমতাবস্থায় সুপার আমিনুল ইসলাম ৩০ জুন ২০১৮ তারিখে পদত্যাগ পত্র জমা দেন যা মাদ্রাসার ৭ জুলাই, ২০১৮ তারিখের ম্যানেজিং কমিটির সভায় গৃহীত হয়। ওই বছরের ৪ জুলাই সহ সুপার শাহানুর আলমকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের
দায়িত্ব দেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১ নভেম্বর সুপার হিসেবে যোগদান করেন শাহানুর আলম। এরপর ১৪ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে মাদ্রাসাটি জাতীয়করণের ঘোষণায় আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন সাবেক সুপার আমিনুল ইসলাম। এর দু’দিন পর তিন শতাধিক স্থানীয় লোক নিয়ে মাদ্রাসা জবরদখলের চেষ্টা করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নির্দেশে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয় বলে জানান বর্তমান সুপার। ২ জুলাই, ২০১৮ তারিখের দৈনিক জনতা পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ
বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে ব্যাকডেটে পুনরায় তৎকালীন কমিটির কাছে সুপার হিসেবে নিয়োগ নেন তিনি। এরপর আরো আগ্রাসী হয়ে ওঠেন তিনি। ভুয়া রেজুলেশন ও কাগজপত্র তৈরি করে পূর্বে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আবারো লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। বর্তমানে সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন সহ কয়েকজন ছিটমহল আন্দোলনের নেতা সাবেক সুপার আমিনুল ইসলামের সাথে মিলে পুরোনো শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ এ সকল শিক্ষক। সেই সাথে ব্যাহত হয়ে পড়েছে সদ্য জাতীয়করণের ঘোষণা হওয়া মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম। উদ্ভুত পরিস্থিতি সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সর্বশেষ সংবাদ