নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ ইয়াসমিন হত্যা দিবস উপলক্ষে ২৪ আগস্টকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার জেলা শহরের ১নং ট্রাফিক মোড়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা কলেজিয়েট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম লিলি, নাট্য কর্মী শাহনাজ আমিন মুন্নী, সমাজ কর্মী জাহাঙ্গীর কবির তনু, নারীমুক্তি কেন্দ্রের সংগঠক পারুল বেগম, শামিমআরা মিনা প্রমুখ। বক্তরা বলেন, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগষ্ট দিনাজপুরে কয়েকজন পুলিশ ইয়াসমীন নামের ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে এবং নির্মমভাবে হত্যা করে। ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে আান্দোলনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কয়েকজন মানুষকে হত্যা করে। সেই থেকে ২৪ আগষ্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বক্তারা আরও বলেন ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল দির্ঘ ২৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু নারী-শিশু নির্যাতন কমেনি। দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছ নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ ও হত্যা। ধর্ষক ও নির্যাতনকারীরা শাস্তি পাচ্ছে না, বরং সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা, মাদক-জুয়া, সিনেমা-নাটকে-বিজ্ঞাপন- ইন্টারনেটে নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন, মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ ও হত্যার কারন। এসবই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পায়। ফলে আজ নারী-শিশুর জন্য নিরাপদ সমাজ পেতে হলে নির্যাতক-ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবীতে যেমন প্রতিরোধ আান্দোলন গড়ে তুলতে হবে, একইভাবে অপসংস্কৃতি-অশ্লীলতা, মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে হবে। তারা সিনেমা-নাটক-বিজ্ঞাপন ও ইন্টারনেটে নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে উপস্থাপন ও মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে তীব্র গণআান্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

সর্বশেষ সংবাদ