আবারো বড় ধরনের ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আবারো বড় ধরনের ধাক্কা খেল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালে দ্বিতীয় দফায় ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম চালুর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) রাতে জরুরী বৈঠকে বসে নিরাপত্তা পরিষদ।

নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত না হওয়ায় আগামী অক্টোবর থেকে ইরানের ওপর থেকে উঠে যাচ্ছে বহুল আলোচিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা।

অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নিয়ে ১৫ সদস্যের পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।

পরে নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট দিয়ান দিজানিস জানান, ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ করা সম্ভব নয়। এর ফলে আগামী অক্টোবরে ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পথে আর বাধা থাকলো না।

ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায়ও নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাসে ব্যর্থ হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ।

জাতিসংঘে মার্কিন প্রতিনিধি কেলি ক্রাফট বলেন, ‘আমাদের ইউরোপীয় সহকর্মীরাও ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। আমার মনে হয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সঠিক পথে চলছেন না। তারা সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ’

ইরানের সন্দেহভাজন দুটি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি চায় আইএইএ

এক টুইটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, ‘আবারো প্রমাণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র একঘরে এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেরও’র আইন লঙ্ঘনকারী দাম্ভিকতার জন্যই ক্রমেই বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।’

বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ফ্রান্সের স্থায়ী প্রতিনিধি আনা গুইগুন বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আর ইরানের পরমাণু সমঝোতার অংশ নয়; কাজেই তার পক্ষে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালু করার আবেদন জানানোর অধিকারই নেই।’

নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, আমেরিকা গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের যে আবেদন জানিয়েছে তা মেনে নেয়া সম্ভব নয়। বৈঠকে চীনা স্থায়ী প্রতিনিধি জং জুনও একই ধরনের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত ২০ আগস্ট নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে লেখা এক চিঠিতে ইরানকে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে দেশটির বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক চালু বা সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আবেদন জানান। এই প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ার ফলে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বা আগের কোনো নিষেধাজ্ঞা বহালে আর কোনো সুযোগ থাকলো না যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। এতে করে ইরান এখন যেকোনো দেশের সঙ্গে অস্ত্র কেনা বেচার বৈধ অধিকার পেলো।

এর আগে গত সপ্তাহে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নবায়ন করার যে চেষ্টা চালিয়েছিল তাও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা না হলে ইরানের বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালু করা হবে।কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আমেরিকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে পরপর দু’বার ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলো যা এই বিশ্ব সংস্থার পাশাপাশি আমেরিকার বলদর্পিতার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।