“আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুব নেতৃত্ব শীর্ষক বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ এর ১০ম অধিবেশন অনুষ্ঠিত

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুব নেতৃত্ব” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ এর ১০ম অধিবেশন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ ও ইয়ূথ এগেইনষ্ট হাঙ্গার বাংলাদেশসহ প্রায় ৪০ টি স্বে”ছাব্রতী সংগঠনের উদ্যোগে আজ ২৯ আগস্ট, ২০২০, বিকাল ৩ টায় অধিবেশনটি আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। অধিবেশনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন, সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী ও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত সংস্কৃতিসেবী আসাদুজ্জামান নূর এমপি। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, সিনিয়র সচিব ও অর্থনীতিতে একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শামসুল আলম। শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ¯’ায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. গেøারিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ¯’ায়ী কমিটির সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলী এমপি। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. মো. জসিম উদ্দিন ও কলেজ অব হোম ইকোনোমিকস এর অধ্যক্ষ, অধ্যাপক ইসমাত রুমিনা।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সম্পদ হচ্ছে দেশের এক তৃতীয়াংশ যুব সমাজ। সংখ্যাটা প্রায় সাড়ে ৫ কোটি। এই যুব জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন পরিকল্পনার ‘কেন্দ্র¯’লে’ রাখার দাবি জানিয়ে ঢাকা-৬ আসনের বিরোধী দলীয় যুব সংসদ সদস্য মহসিনা আক্তার বন্যা ‘আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুব নেতৃত্ব’ এই বিষয়ের ওপরে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবের ওপরে যুব সংসদ নেতা ঢাকা-১২ আসনের রাইসুল মিল্লাত সাফকাত, বিরোধী দলীয় নেতা চট্টগ্রাম- ৮ আসনের আজমেরি রহমান সিšি’য়া, মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে মো. মিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লা-১০ আসন থেকে মো. সাদ্দাম সামি, লালমনিরহাট-২ আসন থেকে জামাল হোসেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস জুই,নারায়নগঞ্জ-৪ আসন থেকে নিগার সুলতানা, যশোর-২ আসন থেকে জুবায়ের বিন মুখলেস, পটুয়াখালি-১ আসন থেকে জহিরুল ইসলাম, শেরপুর-১ আসন থেকে হাবিবা নাজলীন লীনা, নরসিংদী-১ আসন থেকে মালিহা মেহেরীন বুশরা, ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে আদিবা কবির সৃষ্টি ও খুলনা-১ আসন থেকে ক্রিষ্টিনা ঐশি মোহন্তাসহ মোট ১৪ জন যুব সংসদ সদস্য দের বক্তব্য তুলে ধরেন।
যুব সংসদ সদস্য মহসিনা আক্তার বন্যা তার প্রস্তাব উত্থাপনের পাশাপাশি তিনি ৩ টি সুপারিশের তুলে ধরেন- ১. আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে অবিলম্বে দেশে ‘ইয়ূথ পার্লামেন্ট’ গঠন এবং জাতীয় উন্নয়নে যুবদের মতামত প্রকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হোক;
২. ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদসহ ¯’ানীয় সরকারের সকল ক্ষেত্রে যুব প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক করা হোক;
৩. উন্নত, সমৃদ্ধ ও সুখী সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরে যুব সহায়ক নীতিমালা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের প্রথম ‘যুববান্ধব’ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হোক;

যুব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী রাইসুল মিল্লাত সাফকাত তার বক্তব্যে বলেন- আমরা তখনই একটি সফল, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারব যখন যুবকরা তাদের মেধা, শ্রম সাহস ও উদ্ভাবনী প্রতিফলন ঘটাতে সফল হবে। আমি প্রস্তাবকের এর প্র্স্তাব উত্থাপনের জন্য আবারও সাধুবাদ জানিয়ে এবং যুব নেতৃত্বের বিকাশের জন্য যুব সংসদ গঠনের প্রস্তাবটিকে বিবেচনার জন্য মাননীয় স্পিকারকে অনুরোধ করব।

চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিরোধী দলীয় নেতা আজমেরি রহমান সিšি’য়া তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বাইরে শ্রমিক পাঠাতে হলে প্রথমে তাদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করে তাদেরকে যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পুষ্টি শিক্ষা বিস্তারে পুষ্টিবিদ নিয়োগসহ যুবদের কাজে লাগানোর ব্যব¯’া করতে হবে। এছাড়াও তিনি সরকারি উদ্যোগে যুব সংসদ গঠন করার সুপারিশ করেন।

আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন- বাংলাদেশ একটি যুববান্ধব দেশ। বর্তমান সরকার এদেশের যুব সমাজকে সব থেকে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে আমরা কাজ করছি। যুবদের উন্নয়নে আমরা যুবনীতি ২০১৭ প্রণয়ন করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও এদেশের যুব সমাজকে সব থেকে বেশি পছন্দ করেন এবং তাদের জন্য কাজ করতে চান।
অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, তরুণরাই আগামীর ভবিষৎ। দেশের অর্থনীতির পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এদেশের তরুণ সমাজ। তরুণদের আমরা বরাবরই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। তরুণদের মধ্যে আত্মকর্মসং¯’ান বৃদ্ধি এবং তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই কর্মসং¯’ান ব্যাংকের মাধ্যামে বিনা জামানতে সহজশর্তে কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা করে ঋণ সহায়তা দিয়ে যা”েছ।

অ্যাড. গেøারিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি বলেন- তরুণদের কথা শুনতে হবে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তামান্না নুসরাত বুবলী এমপি বলেন, তরুণরাই আগামীর ভবিষৎ। আগামীর দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব তরুণদের হাতে। তাই তরুণদেরকে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকতে হবে।

ড. মো. জসিম উদ্দিন বলেন- তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠতে হবে। চাকুরীর পিছনে না ছুটে তাদেরকে নিজেদেরকে আত্মকর্মসং¯’ানে এগিয়ে আসতে হবে।

অধ্যাপক ইসমাত রুমিনা বলেন, যুব ছায়া সংসদ তরুণদের জন্য একটি অনেক বড় প্লাটফর্ম। সরকারের উচিত তরুণদের কথা শোনা এবং সরকারি উদ্যোগে যুব সংসদ গঠন করা।

এছাড়াও বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ এর পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি’স অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ‘উন্নত রাষ্ট্র’ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হ”েছ। সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ২০৪১ সালকে ঘিরে ‘দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ‘ডেল্টা প্লান ২১০০’ শিরোনামে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা যুব সমাজের পক্ষে সরকারের ঘোষিত এই পরিকল্পনাসমূহকে স্বাগত জানাই কিš‘ সাথে সাথে আমরা এই প্রশ্নটাও সবিনয়েও করতে চাই যে, দেশের যুব সমাজকে এই পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নে কিভাবে সম্পৃক্ত করা হবে এবং তাদের ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে কি কি পরিকল্পনা নিয়েছে? দেশের যুব সমাজ সরকারের কাছে সবিনয়ে এই প্রশ্নটা রাখতে চায়, সরকার আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যুব নেতৃত্বের ভূমিকাকে কিভাবে দেখছে? সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ যুব ছায়া সংসদ থেকে আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব রেখেছি সেগুলো যেন বর্তমান সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেন।
উল্লেখ্য যে যুবদের মধ্যে নেতৃত্বের বিকাশ, গণতান্ত্রিক চর্চা বৃদ্ধি, তারুণ্যের অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলায় প্রণোদনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে মহান জাতীয় সংসদের আদলে ২০১৪ সাল থেকে যুব ছায়া সংসদ এর কার্যক্রম পরিচালিত হ”েছ। এবং এই পর্যন্ত ৯টি অধিবেশন সম্পন্ন হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ