দুপচাঁচিয়ার চামরুল ইউনিয়নে শতাধিক জনের তালিকার ভিজিডি-ভিজিএফ-এর চাল যায় কোথায়?

রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া: বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ২নং চামরুল ইউনিয়নে ভিজিডি-ভিজিএফ-এর চাল যায় কোথায়? একই ব্যক্তির নাম ভিজিএফ-এর তালিকায় ৪র্থবারের মতো উঠানো হলেও তিনি একটিও পাননা! এমনকি এক ব্যক্তির একাধিক তালিকায় নামও রয়েছে। এমন শতাধিক নাম দিয়ে চাল উত্তোলণ করা হলেও তালিকায় স্থান পাওয়া অসহায় গরীব মানুষের দাবি তারা কিছুই পাননি। তালিকায় যাদের নাম রয়েছে অনেকেরই জানা নেই তা। আবার তালিকায় রয়েছে ৫ থেকে ৭ বিঘা জমির মালিক, ছাদ ঢালাই বিল্ডিং বাড়ি, ইজিবাইকসহ ৫-৭টি গরু-বাছুরওয়ালা সামথ্যবান ব্যক্তির নামও। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ২নং চামরুল ইউনিয়নে। ২নং চামরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান আলীসহ দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এইচ এন আশরাফুল আরেফিন ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সত্যায়িত ও স্বাক্ষরিত একই পৃষ্ঠায় একই ব্যক্তির ৩টি স্থানে নাম। যোগসাজসেই এমনটি ঘটনানো হয়েছে। আর এসব বরাদ্দ চাল জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয়ার প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার শাজাহান আলী শেখ-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানিমূলক অবস্থানে ২নং চামরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান আলীসহ কিছু ইউপি সদস্যরা অপকৌলশল করছে মর্মে ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার দাবি করছেন।

উল্লেখ্য, ২নং চামরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান আলীর বিরুদ্ধে ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য শাজাহান আলী শেখ অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। একই সাথে তিনি গত ঈদুল আযহায় ভিজিএফ চালের তালিকায় একই ব্যক্তির একাধিক নাম দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ করেন। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার মহিলা (সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯) সদস্য বিউটি বেগম শাজাহান আলী শেখের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১-এর আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। যা তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য বৃদ্ধ শাজাহান আলী শেখ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। পরে গত ২৪ আগষ্ট রেজুলেশন করে সদস্য শাজাহান আলী শেখের প্রতি অনাস্থা আনা হয়েছে। শাজাহান আলী শেখ ২৯ আগষ্ট শনিবার দুপচাঁচিয়ায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। যেখানে উল্লেখিত বিষয়ে তার বিরুদ্ধে করা ষড়যন্ত্রের সঠিক তদন্ত দাবি করে প্রশাসনের উর্দ্ধোতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

সরেজমিনে ক্যামেরার সামনে সাংবাদিকদের নিজেদের নিরাপত্তার আকুতি রেখেই তালিকার ৪টি ৬৩০, ১৮৩২, ১৮৪০, ১৮৪৭-এর নাম থাকা কোলাগ্রামের ইছাহাক আলীর স্ত্রী রাসেদা খাতুন কোন কথা বলতে চাননি। ৫৯৪ ও ২৮৬ তালিকায় স্থান পাওয়া একই গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের বিধবা স্ত্রী সোরেফা বিবি জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর ১০ বছরে দুই মেয়ে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবন চালানোই ভাতার জন্য দালালদের ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা দিতে না পেরে কোন কার্ড পাননি ( নিরাপত্তাহীনতায় তিনি তাদের নাম বলতে চাননি।) অথচ জানতে পারছি আমার নামে ২টি ভিজিএফ ও ভিজিডি রয়েছে। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটলেও আমার নাম করে কে খায়, কারা খায়, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আমি বিচার চাই।

অপরদিকে চকসোহাগা গ্রামের হবিবরের পুত্র আব্দুর রহমান ৫ থেকে ৭ বিঘা জমির মালিক, ছাদ ঢালাই বিল্ডিং বাড়ি, ইজিবাইকসহ ৫-৭টি গরু-বাছুরওয়ালা সামথ্যবান ব্যক্তি। তার নামে ১৪৬০ নং-এ ১০ কেজি চালের কার্ড হয়েছে। আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রীর দাবি, মহিলা (সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯) সদস্য বিউটি বেগম নিজ স্বামীর মাধ্যমে রাস্তায় একটি পানি পারাপারের জন্য ব্যবহৃত চং বা স্লাব দেয়ার কথা বলে আবুদর রহমানের ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে যায়। পরবর্তীতে কিভাবে কার্ড হয়েছে আমি জানিনা। পক্ষান্তরে একই গ্রামের ফজু মিয়ার স্ত্রী সফুরা ও তার মেয়ে সাবিনা সহায় সম্বলহীন জরার্জীণ টিনের বেড়ার বাড়িতে অবস্থান করলেও কোন তালিকায় নাম নেই তাদের। অন্যদিকে কোলগ্রামের মৃত মতাহার আলীর পুত্র ফজলুল হকের নামে ৭০৬, ১৮৩০, প্রবাসি কালাম হোসেনের স্ত্রী বিলকিস বানু ৬৩২, ১৮৪১ থাকলেও তারা কোন কিছুই পাননি। এরকম তালিকায় শতাধিক নাম থাকা সাধারন মানুষের নামে কিভাবে, কারা, ভিজিডি ও ভিজিএফ এর চাল তুলে নেয় তা যেমন জানা নেই তেমনি তা আদায়েরও কোন সামর্থ নেই নিরীহ এসব মানুষের। তবে এসব কিছুকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে তালিকায় ৪টি থাকা একই ব্যক্তি রাসেদা খাতুনের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন, ২নং চামরুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাজাহান আলী। আর সাফাই গাইছেন এসব অনিয়মের সাথে জড়িত মেম্বাররা। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস,এম জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সংবাদ